kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঈশ্বরগঞ্জে ‘যত্ন’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ১৮ হাজার অতিদরিদ্র পরিবার

তালিকায় নাম তুলতেই পকেট ভারি করছেন ইউপি সদস্যরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালিকায় নাম তুলতেই পকেট ভারি করছেন ইউপি সদস্যরা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শুরু হচ্ছে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেস্ট’ (আইএসপিপি) অর্থাৎ যত্ন প্রকল্প। এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ১৮ হাজার অতিদরিদ্র মা ও শিশুরা বিভিন্ন ধরনের সেবা ছাড়াও অর্থ সহযোগিতা পাবে। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকাভুক্ত করতে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা ছাড়াও একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তাছাড়া স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় মাইজবাগ ইউনিয়নে গিয়ে উপস্থিত হাজার খানেক নারীদের সামনে রেখে তালিকাভুক্তি হওয়ার জন্য কাউকে টাকা দিতে নিষেধ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।

যেসব পরিবারে গর্ভবতী নারী শুন্য থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশু অথবা দুই-চার বছর বয়সী শিশু রয়েছে তারাই হবেন যত্ন প্রকল্পের উপকারভোগী। উপকারভোগী গর্ভবতী হলে চারবার চেকআপের জন্য চার হাজার টাকা পাবেন। শিশু জন্ম নেওয়ার ২৪ মাস পর্যন্ত মাসিক মনোদৈহিক সেশনে অংশ নিয়ে মা ও শিশু ১ হাজার ৪০০ টাকা পাবেন। টানা তিন মাস সেশনে উপস্থিত থাকলে মা একটি বোনাস ভাতা পাবেন। 

এছাড়া শিশুর বয়স পাঁচ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস পর পর মনোদৈহিক সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য পাবেন ৭০০ টাকা করে। এসব আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার কথা জেনে কৌশলে উপকারভোগীদের ফাঁদে ফেলে কতিপয় ইউপি সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

আজ শনবিার উপজলোর কয়কেটি গ্রাম ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নাম তালিকাভুক্ত হলেও স্বচ্ছল পরিবারে নারীরাও তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। দুপুর ১টার দিকে উপজলোর মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় কয়েক শ নারী শিশু কোলে নিয়ে সকাল ১০টার পর থেকে অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন নারীর কাছে ইউপি আগমনের কারণ জানতে চাইলে তাঁরা কিছু বলতে পারেনি। তবে দীর্ঘ সময় বৃথা অপক্ষো করার কারণে অনেক নারীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

উপজলোর দত্তগ্রাম থাকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মাইজবাগ ইউপি এসেছেন কৃষক মো. ইলিয়াছ। আগমনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইলিয়াছ বলেন, স্ত্রীর নাম তালিকায় উঠিয়েছেন। এখন খোঁজ নিতে এসেছেন। আপনি তো অতদরিদ্ররা নন। আপনার জমজিমাও আছে। তাহলে স্ত্রীর নাম অতিদরিদ্রদের তালিকায় উঠাতে চাইছেন কেন প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াছ বলেন, আমার মতো অনেকেই তো করছে। একই গ্রামের মো. আনোয়ার কাদিরের একটি ওষুধের দোকান আছে। তিনি স্ত্রীর নাম তালিকায় দিয়েছেন। তিনি খোঁজ নিতে এসেছেন।

অতিদরিদ্রদের তালিকায় স্বচ্ছলদের নাম তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজলো নির্বাহী কর্মর্কর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য প্রতি ইউপিতে তদারক র্কমর্কতা নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রকল্পের উপজেলা সুপারভাইজার কাজল কান্তি তরফদার বলেন, প্রকল্পটি চালু করার আগে প্রশিক্ষণের সময় এ বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বলে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ বিষয়ে তাঁরা যত্নবান হবনে। আমাদের লোকজন উপকারভোগী নাম অর্ন্তভুক্ত করে সার্ভারে আপলোড করবে। সেখান থেকে নামগুলো অন্য একটি সংস্থার কাছে পাঠানো হবে যাচাই করার জন্য। প্রতিটি নাম বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করা হবে। তখন বিষয়টি ধরা পড়লে সচ্ছলদের নাম বাদ পড়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা