kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ভাঙ্গুড়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙ্গুড়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বড়াল নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলন করছেন উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর গ্রামে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল 
ইসলাম। উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের খাল ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আহসান হাবিব বিষয়টি দেখেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের বাসিন্দারা ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে শাহনগর প্রাইমারি স্কুল থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেক তদবিরও করেছেন। তবে রাস্তা নির্মাণ করতে পারেননি। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সাথে একটি চুক্তিতে নিজ খরচে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ওই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শর্ত মোতাবেক রাস্তা নির্মাণের খরচ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস পরবর্তীতে অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে পূরণ করে দিবেন। এতে এ মাসের শুরু থেকেই রাস্তা নির্মাণের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম।

আজ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহানুর গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের গেট থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে। এ সময় শাহনগর প্রাইমারি স্কুলের একটি খাল ভরাট করতেও বালু ফেলতে দেখা যায়। গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বড়াল নদী থেকে ওই বালু উত্তোলন করে এসব স্থানে ফেলছেন। এ সময় মোবারক হোসেন জানান, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের সাথে ৯০ হাজার টাকার চুক্তিতে তিনি তার ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাস্তা ও বিদ্যালয়ের খাল ভরাট করে দিচ্ছেন। নদী থেকে বালু উত্তোলনে কোনো দপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মেম্বার জানে।

এ বিষয়ে শাহনগর গ্রামের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মধ্যে ওই রাস্তাটি নির্মাণ করে দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল আমার। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরে সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় নিজ অর্থে রাস্তা নির্মাণ করে দিচ্ছি। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে রাস্তাটি ইট দ্বারা এইচবিবি করে দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে কাজটি করা হচ্ছে।’

অষ্টমনিষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, ‘নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউল আলমের মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা