kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

‘ফেলনা’র বেঁচে থাকার গল্প

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফেলনা’র বেঁচে থাকার গল্প

কে বা কারা ফেলে দিয়ে যায়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জবুথুবু। শিশির পড়ে ভিজে গেছে শরীর। হয়তো সহ্যহীন ‘যন্ত্রণা’ কিংবা মায়ের খোঁজে কান্না! যে কান্নায় স্বজনের মন গলেনি সেই কান্না হৃদয় ছুঁয়ে যায় দুই শিশুর। এভাবেই শুরু হয় নবজাতকের বেঁচে থাকার গল্প। কলাগাছে ঝোঁপ থেকে হাসপাতালের বিছানায়। এক টুকরো কাপড়ের বদলে নতুন পোশাক।

কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঁকি দেয়নি। পাখি ধরার ফাঁদ পাততে ১০-১২ বছরের দুই শিশু বালুর মাঠ ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। কানে আসে কান্নার শব্দ। কলাগাছের ঝোঁপে গিয়ে দেখা মেলে নবজাতকের। ছুটে গিয়ে বিষয়টি তারা কাছেই থাকা ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় এক ব্যক্তিকে অবহিত করে। পরে এনে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানেই মেয়ে শিশুটির সেবা চলছে। 

নবজাতকের এ বেঁচে থাকার সত্যিকারের গল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পৌর এলাকার পৈরতলা রেলগেইটের পাশে বালুর মাঠ থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই নবজাতকের বাবা-মায়ের পরিচয় পাওয়া না গেলেও অনেকেই তাকে নিতে ধর্ণা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনতলার শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সদর থানায় কর্মরত অন্তরা নামে এক পুলিশ সদস্য শিশুটির সামনে বসে আছে। ছুটে আসেন সেবিকা (নার্স) পারুল বেগম ও তাসলিমা আক্তার। লাগিয়ে রাখা স্যালাইনটি পাল্টে দিয়ে তারা জানান, শিশুটি ভালো আছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদস্য অন্তরা জানান, সকাল থেকেই তিনি শিশুটির পাশে আছেন। অনেকেই শিশুটিতে দেখতে আসছেন।

পৈরতলা রেলগেইটের পাশের চা দোকানী মো. সুমন মিয়া জানান, বালুর মাঠের এলাকাটিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন হবে। জায়গাটি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন বলে সেখানে কলাগাছের কাছে দুই শিশুকে দেখে সন্দেহ হয়। পরে একজনকে পাঠিয়ে জানতে পারেন শিশুরা পাখি ধরার ফাঁদ পাতছিল। এরই মধ্যে ওই শিশুরা এসে জানায় সেখানে এক শিশু কান্না করছে। পরে সেখানে ট্রাফিক পুলিশকে নিয়ে শিশুটির কাছে ছুটে যাই।

ট্রাফিক পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের জন্য আমরা রেলগেইট এলাকায় আটকা পড়ি। এ সময় দুই শিশু এসে নবজাতক পড়ে থাকার কথা বলে। সাথে সাথে সেখানে ছুটে গিয়ে দেখি একটি কাপড়ে (নেকড়া) পেঁচানো রয়েছে শিশু। তাৎক্ষণিকভাবে একটি ওড়না দিয়ে শিশুটিকে পেঁচানো হয়। পরে কন্ট্রোলরুমে খবর দেওয়া হলে থানা পুলিশ এসে শিশুটিকে নিয়ে যায়।’

হাসপাতালের ভর্তির কাগজে মোবাইল ফোনে কল করা হলে রিসিভকারি জানান, তিনি সদর থানা পুলিশের কনস্টেবল ও গাড়িচালক মো. তোফায়েল আহমেদ। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে আশপাশের বাড়ি থেকে গরম কাপড় এনে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে বলে তিনি জানান।

সদর থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানান, উদ্ধারের পর শিশুটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেকেই শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে দুইজন আবেদন করেছেন। সমাজ সেবা অফিস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা খুবই কম ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর এখন শিশুটির অবস্থা ভালো। শিশুটির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা