kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

অফিস চত্বরের গাছ কাটলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অফিস চত্বরের গাছ কাটলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বয়সী ১৫/২০টি ফলদ ও বনজ  গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। এদিকে, গাছ কাটার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কিছু কাটা গাছের গুঁড়ি দেখিয়ে সে সবের মূল্য নির্ধারণের জন্য সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক। গত সোমবার রাতে ওই আবেদন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তর একই জায়গায় হলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কার্যালয়টি শহরের নয়াটোলা জসিমবাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। আর এ দপ্তরের সীমানাপ্রাচীরের চতুর্দিকে বিভিন্ন বয়সী অনেকগুলো বনজ ও ফলদ গাছ রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়টি পৃথক জায়গায় হওয়ায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক অফিস চত্বরের বিভিন্ন বয়সী প্রায় ১৫/২০টি ফলদ ও বনজ গাছ কেটে অত্যন্ত গোপনে বিক্রি করা শুরু করে। গত ১০ জানুয়ারি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থেকে শুরু হয়ে গত সোমবার পর্যন্ত ওই সব গাছ কাটা করা হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বরের গাছ কাটার খবর পেয়ে গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে বেশ কিছু গাছের গুঁড়ি ও কাটা গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায় যে গাছ কাটার পর অনেক গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

অফিস চত্বরের গাছ কাটা নিয়ে আজ মঙ্গলবার সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তিনি জানান, তাঁর অফিসের পাশে দিয়ে ১১ হাজার কেভি ক্ষতাসম্পন্ন বৈদ্যূতিক সঞ্চালন লাইন রয়েছে। অফিসের একটি গাছের ডালপালার কারণে তা একবারে বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। এ ছাড়াও অফিস ভবনের ওপরে গাছের ডালপালা থাকায় অফিসে রোদ ও আলো-বাতাস পাওয়া যায় না। গাছের ডালপালায় অফিস ভবন সারাক্ষণ অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অফিসে বসে ঠিকভাবে কাজকর্ম করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই একটি কদম গাছসহ কিছু গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। তিনি জানান, কাটা গাছের মূল্য সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাটা গাছের গুঁড়িগুলো আজ বুধবার উন্মুক্ত লিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি। আর অফিস চত্বরের গাছের ডালপালা কাটার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার মুঠোফোনে কথা হলে সৈয়দপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সোমবার রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাঁর দপ্তরের কাটা গাছের মূল্য নির্ধারণের জন্য লিখিত আবেদন দেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে কাটা গাছে গুঁড়ি দেখে সে সবের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।  

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদের সরকারি মুঠোফেনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা