kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গায়ে হলুদে দেড় হাজার শ্রমিক নিয়ে অনুষ্ঠান, আজ মালিকের মেয়ের বিয়ে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ জানুয়ারি, ২০২০ ১২:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গায়ে হলুদে দেড় হাজার শ্রমিক নিয়ে অনুষ্ঠান, আজ মালিকের মেয়ের বিয়ে

মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক। অথচ নিজের একমাত্র মেয়ের গায়ে হলুদের গোটা অনুষ্ঠানটাই করলেন, শ্রমিকদের নিয়ে। দেড় হাজার শ্রমিকই হয়ে উঠলো, আয়োজনের সব। যেন বিশাল এক পরিবার। চট্টগ্রামে এমন কীর্তি পোশাক কারখানার মালিক এসএম আবু তৈয়বের। আজ ৫ জানুয়ারি নগরীর নেভি কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

লোকগানের সুরে কন্যার গায়ে হলুদ। পুরো চত্বরটিই যেন হলুদরঙা। কোনো কাজ নেই। সময়টা যেন বাঁধভাঙা আনন্দের। তাইতো সেজেগুজে কেউ নাচছে, কেউ গাইছে। আর যাকে ঘিরে এই উচ্ছ্বাস, তিনি যেন তাদেরই বহুদিনের আপন কেউ। গার্মেন্ট কন্যারা কেউ ৫০ টাকা, কেউ ২০ টাকা, কেউবা ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে নিজেদের মতো করে প্রীতিকে চমৎকার এক সেট স্বর্ণের গহনা উপহার দিয়েছেন। প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে কেনা সেই গহনা গার্মেন্ট কন্যারাই পরিয়ে দিয়েছেন মালিক কন্যার গায়ে।

যাদের শ্রমে-ঘামে ঘুরছে কারখানার চাকা, সেই শ্রমিক-কর্মচারিদের নিয়েই নিজের একমাত্র মেয়ে শাইকা তাফান্নুম প্রীতির গায়ে হলুদের ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি করেন চট্টগ্রামের ইনডিপেনডেন্ট অ্যাপারেলসের মালিক এসএম আবু তৈয়ব।

কী ছিল না তাতে! জাকজমকপূর্ণ গায়ে হলুদের সমস্ত আয়োজন যেমন ছিল, তেমনি সব শ্রমিককেই দেয়া হয়েছিল নতুন পোশাক। প্রচলিত ধারণা, শ্রমিক-মালিকের সম্পর্ক কেবলই শ্রম দেয়া-নেয়ার। কিন্তু তারাও যে পরিবারের সদস্যের মতোই, বারবার সেটাই অনুরণিত হয়েছে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে।

ইন্ডিপেনপেন্ট গার্মেন্ট কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গায়ে হলুদ উপলক্ষে গতকাল কারখানার সব শাখা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গার্মেন্টের ছাদের ওপর মঞ্চ করে আয়োজন করা হয় মালিক কন্যার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। ছাদজুড়ে ছিলেন শত শত নারী। তারা সবাই ওই গার্মেন্টের। সবার পরনে ছিল একই শাড়ি। ব্যবসায়ী আবু তৈয়বের স্ত্রী উলফাতুন্নেছা পুতুলও একই শাড়ি পরে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।

উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে এগিয়ে নিতে হলে, মালিক-শ্রমিকের এই সৌহার্দ্য সবক্ষেত্রে উদাহরণ হোক-এমন চাওয়াও ছিল অতিথিদের।



সাতদিনের সেরা