kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনীতি ছিল সৃষ্টিশীল ও সেবাধর্মী : আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনীতি ছিল সৃষ্টিশীল ও সেবাধর্মী : আমু

আমির হোসেন আমু। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনীতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী, সৃষ্টিশীল ও সেবাধর্মী। তিনি রাজনীতিকে রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। সিটি মেয়র থাকার সময় এ নগরে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগ এ সভার আয়োজন করে।

আমু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও মহিউদ্দিন চৌধুরী দুইবার মেয়র হয়েছিলেন। আমাদের দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একবার মেয়র হন। দল-মত-নির্বিশেষে সবার কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তিনি চট্টগ্রামকে ভালোবাসতেন, চট্টগ্রামের মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন। তিনি চট্টগ্রামকে এতটাই ভালোবাসতেন যে চট্টগ্রামের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করতেও দ্বিধা করতেন না। তাঁকে দলে প্রেসিডিয়াম সদস্য করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতি করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য পদও নেননি।’ 

মহিউদ্দিনের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে সাবেক এ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি সব ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আমার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সংগ্রামী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি শ্রমিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।’ 

মহানগর আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, দলের তৃণমূলের একজন কর্মী থেকে তিনি জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় নেতৃত্বে তিনি কখনো আগ্রহ দেখাননি। কারণ তাঁর চিন্তা ও চেতনায় ছিল শুধু চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের উন্নয়ন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। দলের জন্য কাজ করে তিনি জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহিউদ্দিন ভাই ছিলেন আপসহীন রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের জন্য রাজনীতি করতেন। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করতেন। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল মহিউদ্দিন ভাইয়ের। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি, ঘর থেকে বের হতে পারেনি, তখন মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে প্রথম প্রতিবাদ করেছেন।

সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা