kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ বেড়েছে । দিন দিন তাপমাত্রা আরও কমে আসছে। রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। গত এক সপ্তাহে দুএকদিন বাদে প্রতিদিনই এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল।

তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। রাতের পাশাপাশি দিনেও বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ঠাণ্ডার পরিমাণ আরো বেশি।

পঞ্চগড়ের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছেন। মাঝে দুএকদিন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলেও রবিবার তা আবার ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে তাল মিলিয়ে এ জেলায় শীতের প্রকোপ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরণের কুয়াশার সাথে সাথে উত্তরে হিমালয় থেকে ভেসে আসছে ঠাণ্ডা বাতাস। এই সময়টুকুতে অসম্ভব ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। রাতে কুয়াশাপাতের কারণে পথঘাটে হেডলাইট জ্বালিয়েও যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাতে বিরামহীন কুয়াশাপাত চলছে। ভোরে চারপাশ কিছু সময় কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। দিনের কিছু সময় সূর্যের দেখা পেলেও তাতে নেই তেমন উত্তাপ। শীতের প্রকোপ বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত চরম দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ রাত কিংবা ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেন। তবে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে জেলার বিরাট অঙ্কের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় শীতবস্ত্রের বরাদ্দ খুবই কম বলে জানান স্থানীয়রা। 

এ ছাড়া শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বেশি। শীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও তারা হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায়। সেই সাথে গত কয়েকদিনের তুলনায় শীতের প্রকোপও বেড়েছে। এই ডিসেম্বরে দুএকটি মৃদু ও মাঝারি ধরণের শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রায় ২৮ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ শীতার্তদের মাঝে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা শুরু করেছেন।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা