kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

গতি ফিরছে সিঙ্গাইরের সড়ক উন্নয়নে, বেড়েছে কাজের গুণগতমান

মোবারক হোসেন, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গতি ফিরছে সিঙ্গাইরের সড়ক উন্নয়নে, বেড়েছে কাজের গুণগতমান

ছবি: কালের কণ্ঠ

গতি ফিরছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের দুরাবস্থার কারণে চলাচলে ভোগান্তির সীমা ছিল না জনসাধারণের। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানী ও জানমালের ক্ষতি সাধন হতো। বেহাল সড়ক যোগাযোগের দুরাবস্থা নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ভাঙাচোরা সড়ক উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন কাজ। এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার গ্রামীণ সড়কের দুরাবস্থা নিয়ে গত ৭ অক্টোবর দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় “সিঙ্গাইরের গ্রামীণ সড়ক বেহাল, ভোগান্তি” ও একই দিন পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে “কাদাপানিতে একাকার সিঙ্গাইরের গ্রামীণ সড়ক, ভোগান্তি” শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চীপ ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান ও জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে হাবিবের। এরপর থেকে গতি ফিরেছে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার বাস্তা-মানিকনগর সড়ক, ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিঙ্গাইর-বালুখন্ড ভায়া চারিগ্রাম সড়ক ও ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের উন্নয়নের কাজ। অর্থ বরাদ্দ মিলেছে সিঙ্গাইর-মানিকনগর সড়ক, ভুমদক্ষিণ খাসেরচর সড়ক, চান্দহর বাজার-বিন্নাডাঙ্গী সড়ক, দক্ষিণ চারিগ্রাম-জামশা ইউপি সড়ক, বায়রা ইউপি-বাঙ্গালা সড়ক, সায়েস্তা ইউপি-রামনগর সড়ক ও জামির্তা ইউপি-নিলাম্বরপট্টি সড়কের। অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে উপজেলার সিঙ্গাইর-বায়রা সড়ক, চারিগ্রাম বরুন্ডি সড়ক, জয়মন্টপ মানিকনগর সড়ক, বাস্তা বাজার-খাসেরচর বাজার ভায়া ধল্লা ইউপি অফিস সড়ক, সিঙ্গাইর-কাংশা সড়ক, ডেফলতলী-চারিগ্রাম ভায়া বলধারা সড়ক, আটিপাড়া-পাড়াগ্রাম-আমীন বাজার সড়ক, ঋষিপাড়া-বলধারা ইউপি সড়ক, বাইমাইল-বলধারা বাজার সড়ক, বলধারা ইউপি অফিস-উত্তর জামশা বাজার ইউপি সড়ক, জয়মন্টপ ইউপি অফিস-মানিকনগর সড়ক, সায়েস্তা ইউপি-চারিগ্রাম ইউপি অফিস সড়ক, ইসলামনগর-জয়নগর সড়ক, ধল্লা-বাঘুলপুর খেয়াঘাট সড়ক ও সায়েস্তা ইউপি-রামনগর ভায়া গোপালনগর সড়ক উন্নয়নের।

এছাড়া উপজেলার চান্দহর বাজারে গ্রামীণ হাটবাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত দুই তলা বিশিষ্ট একটি মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। চলছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৪ কোটি ১১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে উপজেলার ৭টি গ্রামীণ সড়ক এইচবিবি (ইটের সোলিং) করণের কাজ।

এদিকে ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৬৭টি উপজেলার সঙ্গে সিঙ্গাইরের প্রধান ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আগামী ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এই প্রকল্পের অধীনে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেন নির্মাণ, ইন্টারসেকশন, স্লোপ প্রোটেকশন, ট্রাফিক সাইন এবং গাইড পোস্ট তৈরি করা হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে উপজেলার পল্লী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কৃষি-অকৃষি পণ্যের বিপণন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, এখন ঠিকাদারদের সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। কাজে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে বিল আটকে দেওয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প সর্বক্ষণিক তদারকি করেন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির চীপ ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান স্যার ও জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে হাবিব স্যার উপজেলার ভাঙাচোরা সড়ক উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন। এলজিইডির এই শীর্ষ দুই কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের প্রচেষ্টায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার প্রধান তিনটি সড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনুমোদন পাওয়া গেছে ৭টি সড়কের আর অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস মিলেছে ১৫টি সড়ক উন্নয়নের।

এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কৃষি-অকৃষি পণ্যের বিপণন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা