kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

স্বামীর পরকিয়ায় বাধা : স্ত্রীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি পরে আত্মহত্যা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামীর পরকিয়ায় বাধা : স্ত্রীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি পরে আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

ঢাকার ধামরাইয়ে স্বামীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করে পাষণ্ড স্বামী। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয় স্ত্রী। হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ফের স্বামী মোবাইলে হুমকি দেয় মুনমুনকে। পরে ‌আজ শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে স্ত্রী মুনমুন আক্তার। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। 

নিহতের পরিবার থেকে জানা গেছে, উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের শাহজাহান কানার ছেলে আরিফুল ইসলাম আজাহার প্রায় ১১ বছর আগে বিয়ে করে ধামরাই পৌরসভার কুমড়াইল মহল্লার আবদুল লতিফের মেয়ে মুনমুন আক্তারকে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিসহ বিভিন্ন অজুহাতে মুনমুনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল স্বামী আজাহার ও পরিবারের লোকজন। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে রিয়াদ আহম্মেদ মহিন। যার বর্তমান বয়স ৮ বছর। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে আজাহারের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে।

গত পাঁচদিন আগে আজাহারের বাড়ির ভাড়াটিয়া এক মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার সময় দেখে ফেলে তার স্ত্রী মুনমুন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে মুনমুনকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে স্বামী আজাহার। এতে মুনমুনের শরীরে গুরুতর নিলাফুলা জখম করে। এ অবস্থায় চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে রেখে দেয় মুনমুনকে।

পরে মুনমুনের স্বজনরা খবর পেয়ে মুনমুনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে গলার বাম পাশে ১১টি সেলাই দেওয়া হয়। চারদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয় মুনমুন। এ অবস্থায় মুনমুনকে তার স্বামী আজাহার মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়। পরে হাসপাতাল থেকে বাবার বাড়ি কুমড়াইলে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুনমুন।

মুনমুনের বাবা আবদুল লতিফ জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক দাবিসহ বিভিন্ন অজুহাতে তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল তার মেয়ের জামাই আজাহারসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এ জন্য ১১ মাস আগে দুই লাখ টাকাও দেওয়া হয়েছে জামাই আজাহারকে। আজাহারের সঙ্গে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার আজাহারের বাড়ির এক ভাড়াটিয়া মেয়ের সঙ্গে অবৈধকাজ দেখে ফেলায় তার মেয়েকে বেধম মারধর করে আজাহার। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার পেছনে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করছে নিহতের স্বজনরা।

নিহত মুনমুনের চাচাতো বোন হুমায়রা বেগম বলেন, তার বোন মুনমুনকে প্রায় শারীরিক নির্যাতন করতো আজাহার। আজাহারের স্বভাব চরিত্র ভালো না। পরকিয়া অবৈধ কাজ করার সময় মুনমুন দেখে ফেলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এতে বেধম প্রহার করে মুনমুনকে। স্বামীর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে মুনমুন।

মুনমুনের আট বছরের শিশু ছেলে আরবান স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ আহম্মেদ মহিন কেঁদে কেঁদে বলতে থাকে তার বাবা তার মাকে প্রায়ই মারধর করত।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা