kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বৈঠকের পরও সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে অনিশ্চয়তা

২৬ দিন থেকে বন্ধ রয়েছে ভারত থেকে পাথর আমদানি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈঠকের পরও সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে অনিশ্চয়তা

ভারতের মোহদিপুর স্থলবন্দর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর হয়ে পাথর আমদানি ২৬ দিন বন্ধ থাকায় পাথর আমদানিতে জটিলতা দূরীকরণ ও সমস্যা সমাধানে দুদেশের প্রতিনিধিদের শুক্রবার বিকেলে বৈঠক ভারতের মোহদিপুরে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিনিধিরা পাথর আমদানিতে জটিলতা দূরীকরণ ও সমস্যা সমাধানে ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়া নিয়ে আলোচনা করলেও ভারতের সংশ্লিষ্টরা কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। আর এতে করে অনিশ্চয়তায় থেকে গেল দুদেশের পাথর আমদানি-রপ্তানি। তবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও আমদানিকারকদের দেওয়া ৪ দফা ভারতের সংশ্লিষ্টরা মেনে নিলে যেকোনো সময় আমদানি শুরু হতে পারে বলে জানান আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু।

ভারতের মোহদিপুর স্থলবন্দর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর হয়ে পাথর আমদানি ২৬ দিন বন্ধ থাকার পর ১১ ডিসেম্বর জেলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর শনিবার থেকে পাথর আমদানি শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি, সম্পাদক ও উপদ্বেষ্টাসহ ১০ প্রতিনিধি, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকসহ ৫ প্রতিনিধিসহ ১৮ জন প্রতিনিধি ভারতের মোহদিপুর স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ট্রাক মালিক ও রপ্তানিকারক গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন বলে জানান সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। 

বুধবার চাঁপাইনবাবাবগঞ্জের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জানানো হয়েছিল মোহদিপুরে বৈঠকে ভারতের মালদাহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৈঠক হবার কথা। শুক্রবার বিকেলে সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না মালদাহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলে জানান সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ।

আমদানিকারক গ্রুপের নেতারা জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পাথরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএলপিএ ) ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ১৬ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে পাথর আমদানি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পাথর রপ্তানিকারকদের অতিমুনাফা, ভারতের মোহদিপুর বন্দরে বিভিন্ন পণ্যভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে আসতে ওপারে অহেতুক লোকাল ট্রাকে পণ্য পুনলোড করে বেশী ভাড়া প্রদানে বাধ্য করা, ইচ্ছাকৃতভাবে জট তৈরি করে বিলম্ব করিয়ে ট্রাক থেকে বিলম্ব ফি আদায়ে এমনিতেই লোকসানে পড়েন পাথর আমদানিকারকরা। তার ওপর মৌখিক নির্দেশনায় অযাচিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টন প্রতি পাথরের জন্য বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে টাকা দিতে হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কারোরই পক্ষে পাথর আমদানি করা সম্ভব হবে না। এসব সমস্যা ও জটিলতাকে কেন্দ্র করে আমদানিকারকরা গত ১৬ নভেম্বর থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রাখে আমদানিকারকরা।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ভারত থেকে পাথর আমদানিতে জটিলতা দূরীকরণ ও সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন, এমপি, আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ ও পানামা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার মোহদিপুরে গিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধিরা।

আমদানিকৃত পাথরভর্তি ট্রাকগুলো পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি নিয়ম মোতাবেক স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে ট্যারিফ ফি প্রদান করে আমদানিকারকেরা পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে অথবা তাদের ব্যক্তিগত ইয়ার্ডে ট্রাকের পাথর লোড আনলোড করতে পারবেন বলে বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান সে বৈঠকে থাকা উপস্থিত প্রতিনিধিদের কয়েকজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা