kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপাচার্য মোস্তাফিজুর রহমান বললেন

দেশের উন্নয়নে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের উন্নয়নে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। পতাকা উত্তোলন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এক শোকর‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ‘চির উন্নত মম শির’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানগণ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমিক, ন্যায়পরায়ণ, কুসংস্কারমুক্ত সচেতন নাগরিক। ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তার অনুমান তারা আগে থেকেই করতে পারেন। বুদ্ধিজীবীরা যেহেতু কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না, তাই শাসক বা সরকার তাদের অপকর্ম নির্বিঘ্ন করতে প্রথমে বুদ্ধিজীবীদের মন রক্ষা করার চেষ্টা করে, লোভ দেখায় না পারলে অবশেষে মেরে ফেলে।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেকোনো দেশের উন্নয়নে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, আপনারা দেশের সূর্য সন্তান, আপনারাই দেশের নেতৃত্ব দেবেন, বুদ্ধিজীবীদের সম্মান করুন, আপনারাও বুদ্ধিজীবী হোন।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সভাপতি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার দে এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবউদ্দিন। এ ছাড়া আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিন, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আহসানউল্লাহ রাসেল, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান রাকিব।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সুজন আলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। আলোচনায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কে এম মাহমুদুল হক।

এদিকে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা