kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গণহত্যার স্মারক 'আমবাড়িয়া গণকবর'

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গণহত্যার স্মারক 'আমবাড়িয়া গণকবর'

১৯৭১ এর গণহত্যার স্মারক আমবাড়িয়া গণকবর। ১৩ নভেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রাম ঘিরে ফেলে ১৩ জন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বরে তাড়াশে নওগাঁ বাজারে অবস্থানরত ১১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তাদের পরাজয় ঘটে এবং যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর প্রায় এক কম্পানি সৈন্য নিহত হয়। জীবন্ত ধরা পড়ে ক্যাপ্টেন সেলিমসহ ৯ জন পাকিস্তানি সেনা। তার প্রতিশোধ নিতে হানাদার বাহিনী ১৩ নভেম্বর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামে ১৩ জনকে একত্রিত করে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তাদের। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে তাড়াশ মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে গণকবরটি সংরক্ষণ করা হয়।

গণকবরে শায়িত শহীদেরা হলেন আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কিয়ামত আলীর ছেলে সাংবাদিক ইয়ার মোহাম্মাদ, মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে  মোক্তার হোসেন, মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান, মৃত লাল চাঁন মন্ডলের ছেলে মেহের আলী, মৃত রজব আলী সেখের ছেলে সুলতান সেখ, মো. মিলন প্রাংয়ের ছেলে ফজলার রহমান, সুলতান শেখের ছেলে মফিজ উদ্দিন সেখ, মৃত হুজুর আলী প্রাংয়ের ছেলে কিয়ামত আলী প্রাং, মৃত হুজুর আলী প্রাংয়ের ছেলে মজিবর রহমান, মৃত ইজ্জত আলী প্রাংয়ের ছেলে ওসমান আলী প্রাং, মৃত এপাত আলী প্রাংয়ের ছেলে দেছের আলী প্রাং, মৃত তাজু প্রাংয়ের ছেলে আমিন উদ্দিন প্রাং, মৃত বাছের ফকিরের ছেলে জুব্বার ফকির কাঁস্তা গ্রামের ধনাই প্রাংয়ের ছেলে ইয়াছিন আলী। তাদের ১৩টি কবর এক সারিতে দেওয়া আছে।

পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন (সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য) উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এলজিইডির সহায়তায় গণকবরের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দেন। তারপর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি।

তাড়াশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার গাজী মো. আরশেদুল ইসলাম বলেন, গণকবরটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছেন তাড়াশের মুক্তিযোদ্ধা, নাগরিক সমাজসহ শহীদ পরিবারের সন্তানেরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা