kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মামলার আসামি বিদেশে, কারাগারে নিরপরাধ আজিজ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলার আসামি বিদেশে, কারাগারে নিরপরাধ আজিজ

নিরপরাধ আজিজ।

যশোরের চৌগাছায় নিরাপরাধ এক ব্যক্তিকে থানা পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রকৃত আসামি বলে জানা গেছে। নামের মিল থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে বিবেচনায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের লোহিত মোহন সাহার ছেলে নব কুমার সাহার বাড়িতে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর ডাকাতি হয়। ২৩ অক্টোবর নব কুমার সাহা বাঘারপাড়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর ২০১১ সালে ৩০ মার্চ বাঘারপাড়া থানায় কর্মরত এসআই গাজী আব্দুল কাইয়ুম লুটতরাজ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩ (ক) ধারায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ৯ আসামির মধ্যে সাত নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে (জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম আছে আজিজুর রহমান)। চার্জশিটে যার বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর। 

চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে মামলাটির নম্বর হয় এসটিসি ৬১/১২। আদালত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে পুলিশ ২০১২ সালের ১ মার্চ আব্দুল আজিজকে আটক করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

২০১২ সালের ৫ মার্চ আব্দুল আজিজ জামিনে মুক্তি পান। সেই থেকে আহাদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতেন। তবে গত তিন বছর আগে আসা, আব্দুল আজিজ প্রবাসে (কাতারে) পাড়ি জমান। বিষয়টি তার বাবা নিশ্চিত করেছেন। প্রবাসে চলে যাওয়ায় আসামি আব্দুল আজিজ আদালতে অনুপস্থিত থাকেন। 

ফলে আদালত চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আবারো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে চলতি মাসের ৯ তারিখ সোমবার রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদের নেতৃত্বে পুলিশ মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে আটক করে আদালতে পাঠায়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আব্দুল আজিজকে তোলা হলে আদালত তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে নিরপরাধ আব্দুল আজিজ কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

মামলার মূল আসামি আব্দুল আজিজের বর্তমান বয়স ৪০ বছর হলেও আটক আব্দুল আজিজের বয়স ৬১ বছর। অপরদিকে আসামি আব্দুল আজিজের পিতা আহাদ আলী কারিগর জীবিত থাকলেও আটক আব্দুল আজিজের পিতা মৃত। এ ব্যাপারে আব্দুল আজিজকে আটককারী চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ বলেন, আসামির নাম ঠিকানা সঠিক থাকার পরই তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আটক আব্দুল আজিজের পরিবার থেকেও জানানো হয়নি যে, তিনি মামালার আসামি নন। 

তবে আটক আজিজের ভাতিজা (ভাইয়ের ছেলে) রাজু আহমেদ বলেন, রাতে না বলতে পারলেও পরের দিন সকালে বিষয়টি পুলিশকে বলেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজীবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামের মিল থাকার কারণে এ রকম হয়েছে। তবে তাদের পরিবার থেকেও আমাদেরকে জানানো হয়নি তার নামে এ ধরনের কোনো মামলা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা