kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পীরগাছায় ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৪:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পীরগাছায় ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ

দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির প্রায় ১২ টন চাল আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন জামিল রবুর বিরুদ্ধে। তিনি চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ৩৯০ জন হতদরিদ্র মহিলার মধ্যে চাল বিতরণ না করে কার্ডের ফাঁকা অংশে জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

এদিকে ভূক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিয়ন (এমএলএসএস) হানিফ উদ্দিনকে ওই ঘটনার তদন্ত করার জন্য প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়। যা নিজে স্বীকার করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলোয়ারা বেগম। এ নিয়ে ভূক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম ভূক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার চাল বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

ভিজিডি কার্ডধারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন জামিল রবু ৩৯০ জন দুঃস্থ মহিলার কাছে গত অক্টোবর মাসের ভিজিডির চাল বিতরণ করেননি। গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) থেকে সুবিধাভোগীদের মাঝে ৩০ কেজি করে নভেম্বর মাসের ভিজিডির চাল (খাদ্যশস্য) বিতরণ শুরু করা হয়। কিন্তু ভিজিডির সুবিধাভোগীদের মাঝে সরবরাহ করা কার্ডের ফাঁকা ঘরে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের স্বাক্ষর করিয়ে নেন তিনি। বুধবার দুপুরে অক্টোবর মাসের চাল না দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হলে সুবিধাভোগীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অবগত করলে বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যানকে চাল বিতরণ না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভিজিডি কার্ডধারী মর্জিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘বাহে চেয়ারম্যান হামাক (আমাদের) গত অক্টোবর মাসের চাউল দেয় নাই। চেয়ারম্যানের লোকজন নভেম্বর মাসের চাউল দেওয়ার সময় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের ফাঁকা ঘরে জোর করি দুইটা করি স্বাক্ষর নেচে। আবার অনেকে দুইবার স্বাক্ষর দিয়াও চাউল পায় নাই।’

তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আঙ্গুর আলম বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী কার্ডধারীরা অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান শুধু নভেম্বর মাসের চাল দিয়ে দুই মাসের কার্ডের ফাঁকা অংশে স্বাক্ষর করে নিচ্ছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রওশন জামিল রবু বলেন, ‘খাদ্যশস্য সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের খাদ্যশস্য বিতরণ করা হলেও কার্ডে কারো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। এ কারণে নভেম্বর মাসের খাদ্যশস্য বিতরণের সময় কার্ডে দুই মাসের ঘরে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। এতে দোষের কিছু আছে বলে মনে করি না।’

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের ভিজিডির চাল বিতরণে তদারকির (ট্যাগ) দায়িত্বে থাকা সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী খাদ্যশস্য বিতরণের দিন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে অবগত করার কথা। কিন্তু ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে কখনও এ বিষয়ে অবগত করেনি। ফলে তদারকির দায়িত্ব থাকলেও কোনোদিন খাদ্যশস্য বিতরণের সময় আমি উপস্থিত থাকিনি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘এক মাসের চাল না দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমি ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু নিজে সেখানে না গেলেও তদন্তের জন্য আমার প্রতিনিধি হিসেবে অফিসের পিয়নকে পাঠিয়েছিলাম। চাল বিতরণে অনিয়মের ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমীন প্রধান বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ভিডিডির চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে যে মাসের চাল বিতরণ করা হবে সেই মাসের স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে একজন অফিসার উপস্থিত থাকবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা