kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

শ্রেণিকক্ষ সংকটে মাদুর বিছিয়ে পাঠদান

শাহরুখ হোসেন আহাদ, রাণীনগর (নওগাঁ)   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রেণিকক্ষ সংকটে মাদুর বিছিয়ে পাঠদান

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। আশানুরুপ সংখ্যায় ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের সংকট, বৈদ্যুতিক ফ্যান না থাকা, বসার বেঞ্চের অভাবসহ অন্তহীন সমস্যার ভারে পাঠদান ব্যবস্থা দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে। তারপরও পাঠদান চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম কোনো রকমে চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার জানানোর পরও ওই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা সংস্কারের উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই একটু ভালো পরিবারের ছেলে-মেয়েকে তাদের অভিভাবকরা ভালো পরিবেশের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার একডালা ইউনিয়নের সঞ্জয়পুর গ্রামে অবস্থিত সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে স্থানীয় কিছু শিক্ষা-অনুরাগী নিজস্ব তহবিল থেকে এক একর জমি ক্রয় করে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপন করেন। ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে ৩৬ হাজার ৬৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করণের ঘোষণা দিলে বিদ্যালয়টি সেই তালিকায় স্থান পায়। দীর্ঘ সময় মাটি আর বেড়ার ঘরে পাঠদান চললেও ২০০০ সালে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ওই বিদ্যালয়ের ভাগ্যে জোটে। পুরাতন হওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই ঘরের ছাদের সিমেন্ট বালু খুলে শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ছে। সরকারের অনেক উন্নয়ন মূলক প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাগ্যে জোটেনি নতুন ভবন ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিন কক্ষ বিশিষ্ট পুরাতন ভবনে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের প্রায় ১১৩ জন শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করে। প্রতি কক্ষে চারটি করে ফ্যান থাকার কথা থাকলেও রয়েছে দুটি করে। গরমের সময় গাদাগাদি করে শিশুদের বসানোর কারণে পাঠদানের সময় মাঝে-মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হওয়ায় অভিভাবকরা মাঝে মধ্যে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠান না।

শিক্ষার্থী অভিভাবক আবু তালেবসহ কয়েকজন জানান, আমাদের এই বিদ্যালয়টি অনেক সমস্যায় নিমর্জিত। পুরাতন ভবনের কারণে আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর আতঙ্কে থাকি। শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে এসে বারান্দায় মাদুরে বসে শিক্ষাগ্রহণ করে। উপযুক্ত পরিমাণ জায়গা থাকলেও সরকারি বরাদ্দে নতুন ভবন না পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে রয়েছে বিদ্যালয়টি।

প্রধান শিক্ষক শাহাদত হোসেন জানান, আমরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাই। এলাকার অনেক মানুষ বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা দেখে তাদের সন্তানকে ভর্তি করাতে চান না। শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ সংকটসহ জরুরি নানান সমস্যায় জর্জরিত এই প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাসার শামসুজ্জামান জানান, আমি নতুন অফিসার হিসেবে রাণীনগরে যোগদন করেছি ওই বিদ্যালয়ে অবকাঠমোগত কি সমস্যা আছে সেটা আমার জানা নেই। তার পরও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে আমি নিজেই পরিদর্শন শেষে সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর জানাবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা