kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সরকারি গাছ কাটছে কারা?

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি গাছ কাটছে কারা?

গ্রামীণ রাস্তার দুই ধারে সরকারিভাবে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ গাছ। যেগুলো এর মধ্যে বেশ বড়ই হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ কাটার হিড়িক পড়েছে। রাস্তার পাশের জমির মালিকেরা যে যার মতো করে কেটে নিচ্ছে এসব গাছ। ফলে রাস্তায় এখন আছে শুধু গাছের কাটা অংশের মূল। প্রশাসন এর মধ্যেই বেশকিছু গাছের কাটা অংশ জব্দ করেছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ মেঠোপথ দফায় দফায় পাকা করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু রাস্তা আজও মেঠোপথই রয়েছে। এসব রাস্তার পাশে কোথাও সরকারি ও বেসরকারি ভাবে আবার কোথাও জমির মালিকেরা বিভিন্ন জাতের গাছ রোপণ করেছে। রাস্তার পাশের গাছগুলো অনেক মূল্যবান হয়ে উঠেছে।    

এদিকে গ্রামীণ সড়কগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ফলে অধিকাংশ সড়কের প্রস্থ বেড়ে গেছে। এ কারণে জমির সীমানায় লাগানো কৃষকের গাছগুলো সরকারি সড়ক স্পর্শ করেছে। তাই জমির মালিকদের অনেক গাছ এখন সরকারি হয়ে গেছে। কিন্ত সড়কের পাশের জমির মালিকেরা তাদের লাগানো গাছের দাবি কিছুতেই ছাড়তে রাজি না। তারা যে যার মতো করে গাছগুলো কেটে নিচ্ছে। 

এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে উপজেলার এলাঙ্গী ৩টি, নিমগাছি ২টি, চিকাশি ২টি, কালেরপাড়া ২টি, গোসাইবাড়ি ৩টি, ভান্ডারবাড়ি ১টি, গোপালনগর ৩টি এবং চৌকিবাড়ি ও মথুরাপুর ইউনিয়নে ৫টি। প্রায় এক মাস ধরে এসব সড়ক থেকে গাছ কেটে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। 

সরকার যেখানে দিকে দিকে সবুজায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা প্রকল্প গ্রহণ করছে, সেখানে সরকারি রাস্তার গাছ দেদারসে কেটে ফেলা হচ্ছে। এসব গাছ কেউ কাটছে দিনের বেলায়, কেউ কেটে নিয়ে যাচ্ছে রাতের আঁধারে, চুরি করে। এতে সরকারের লাখো টাকার ক্ষতি হচ্ছে। অথচ গাছ কাটার কোনো অনুমোদন আছে কি-না সে বিষয়ে কেউ প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি।

উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল বলেন, শৈলমারি গ্রামের রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার খবর পেয়ে প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে গাছের বেশকিছু কাটা অংশ জব্দ করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, সরকারি রাস্তায় গাছ রোপণ করে কেউ মালিকানা দাবি করতে পারেন না। সরকারি রাস্তায় গাছের মালিক সরকার। তাই সেই রাস্তার গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা