kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে ‘ঘরভরা শত্রু’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে ‘ঘরভরা শত্রু’

চট্টগ্রাম-৮ আসনের (বোয়ালখালী-নগর আংশিক) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে নিজেদের দলের অন্তঃকোন্দলই বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। বোয়ালখালীতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার দলাদলিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিরাজ করছে স্থবিরতা। 

কেন্দ্র থেকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও বিএনপির আবু সুফিয়ানের এখন প্রধান সমস্যা তাঁদের দল। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে অন্তঃকোন্দলে বিপর্যস্ত দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই এই মুহূর্তে দুই প্রার্থীর বড় চ্যালেঞ্জ। তা না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা করছেন উভয় সংগঠনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন নেতা।

দুই দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক। সেখানে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলায় দল, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। উপজেলায় পাল্টাপাল্টি কমিটির সম্মেলন আয়োজন নিয়ে প্রায় এক মাস আগে সেখানে জেলা থেকে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হঠাৎ স্থগিত করা হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না। 

অন্যদিকে প্রায় আড়াই মাস ধরে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি নেই। দক্ষিণ জেলা বিএনপি থেকে এই দুই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলেও এখনো সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও করা হয়নি। তৃণমূলের অনেকে বলেছেন, দলীয় অন্তঃকোন্দলের কারণে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ১৩ জানুয়ারি। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ ডিসেম্বর।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বোয়ালখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর এখনো দলে ওই দুই প্রার্থীর বিরোধ নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সঙ্গে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

এদিকে ওই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যারা এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী (১৯ জন) ছিলাম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মোছলেম ভাইকে বিজয়ী করার জন্য নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ওই আসনের আওতাধীন নগরের ছয়টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। নগরের ওয়ার্ডগুলোতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা এসেছে।’

এদিকে দলে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বড় দল, কিছুটা মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে বড় কোনো সমস্যা নেই। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করব। এখানে কোনো গ্রুপিং নেই।’ 

বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) সভাপতি আহমদ হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় দলের বৈধ কমিটি নেই। জেলা সভাপতি এককভাবে একটি কমিটি দিলেও তাতে জেলা কমিটির সর্বসম্মত অনুমোদন নেই। তাই আমরাও একটি কমিটি করেছি। শুধু উপজেলা নয়, প্রায় ইউনিয়নে পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে।’ 

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান বলেন, ‘বোয়ালখালীতে দলের দুই-তিনটি পক্ষ সক্রিয়। আড়াই মাস আগে উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে দিলেও এখনো আহ্বায়ক কমিটি করা হয়নি। বোয়ালখালীতে আমাদের জনসমর্থন আছে। কিন্তু বিরোধের কারণে সংগঠন অগোছালো। নির্বাচনের আগে সবাইকে একত্র করতে না পারলে ইতিবাচক ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।’ 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বাদল আসনটি থেকে টানা তিনবার এমপি হন। গত ৭ নভেম্বর মইন উদ্দীন খান বাদল ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা