kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা

মহেশখালীতে সংবাদকর্মীকে মারধর করে ক্যামেরা ছিনতাই

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহেশখালীতে সংবাদকর্মীকে মারধর করে ক্যামেরা ছিনতাই

চরম উত্তেজনার মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণের আগেই আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল খালেকের সমর্থকরা বেসরকারি টেলিভিশন যমুনার একজন সংবাদকর্মী ও ক্যামেরাপারসনকে ব্যাপক মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহেশখালী দ্বীপের ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে রাতে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউনিয়নের নির্বাচনে ভোট কারচুপির ব্যাপক গুজবের কারণে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে দ্বীপে বহুসংখ্যক সংবাদকর্মী সংবাদ সংগ্রহে যান। সংবাদকর্মীরা দ্বীপে যাবার খবর পেয়ে একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। সংবাদকর্মীরা রাতে দ্বীপের উক্ত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুইন্যাছড়া ও দিনাজপুর নামক গ্রামে গেলে ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

‘আনারস’ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সালাউদ্দিন হেলালী কমল অভিযোগ করেছেন যে, নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান লোকজন সংবাদকর্মীদের ওপর বেধড়ক হামলা চালিয়েছে। এতে সংবাদকর্মী এস এম রাব্বী ও ক্যামেরাপারসন সাইফুল ইসলাম বাদশা আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন জানিয়েছেন, সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তিনি মহেশখালী দ্বীপের পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানিয়েছেন তিনি নিজেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে বিজিবি পাঠিয়েছেন।

এদিকে ৯টি ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, সীল, অমোচনীয় কালি, ফরম, কলমসহ ভোটগ্রহণের যাবতীয় সরঞ্জাম বুধবার বেলা আড়াইটার মধ্যে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. জুলকার নাঈম নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন অফিসার বলেন, ইউনিয়নের ৯টি ভোটকেন্দ্রে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মহেশখালী উপজেলা চৌকি আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্বাস উদ্দিনকে বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গত মঙ্গলবার থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন অফিসারসহ ৭/৮ জন করে পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৬/১৮ জন করে। বিজিবি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এক প্লাটুন। র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে এক টিম। স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা হয়েছে ইউনিয়ন সদরে। মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল ও নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাশ নেওয়া ব্যক্তি ছাড়া বিনাপ্রয়োজনে অন্য এলাকার বাসিন্দাদের আসা-যাওয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার জুলকার নাঈম আরো জানান, শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। আর ১২টি মেম্বার পদে ৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যারা প্রার্থী আছেন, তারা হলেন- (১) দিদারুল ইসলাম, (২) নুরুল হক, (৩) আবদুল গফুর, (৪) মোহাম্মদ নুরুল হুদা, (৫) গিয়াস উদ্দিন সিকদার, (৬) আবদুল খালেক, (৭) ওসমান সরওয়ার, (৮) মোহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম চৌধুরী, (৯) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (১০) এ কে এম ইলিয়াস, (১১) বদর উদ্দিন, (১২) মোহাম্মদ আলম, (১৩) মোহাম্মদ শাহজাহান ফারুকী, (১৪) সোহেল রানা, (১৫) সালাহ উদ্দিন হেলালী কমল ও (১৬) মনির আহমদ।

তবে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক, দিদারুল আলম ও সালাহউদ্দিন হেলালী কমলের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটারেরা ধারণা করছেন।

শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৯৫১৮ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে, পুরুষ ভোটার ৯৮৫৬ জন, মহিলা ভোটার ৯৬৬২ জন। নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ৯ ওয়ার্ডে ৯টি, ভোট কক্ষ রয়েছে ৪৬টি। জেলার শুধুমাত্র একটি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ হওয়ায় কক্সবাজারবাসী সবার কৌতূহল বৃহস্পতিবারের শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের দিকে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা