kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাত জেগে বাঘায় পেঁয়াজ পাহারা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাত জেগে বাঘায় পেঁয়াজ পাহারা

মাঠে পেঁয়াজ পাহারা দিচ্ছেন কৃষক

দামের কারণেই পেঁয়াজ এখন 'নিরাপত্তাহীন'। ক্ষেত থেকেই চুরি হয়ে যেতে পারে পেঁয়াজ। এমন শঙ্কায় রাজশাহীর বাঘায় নিজ নিজ পেঁয়াজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। শুধু রাত জেগে পাহারা নয়, দিনের বেলাতেও চলছে কঠোর নজরদারি। পদ্মার গড়গড়ি চরে কৃষকদের সাথে আলাপকালে মিলেছে এ চিত্র।

স্থানীয়রা জানান, অতিরিক্ত দামের কারণে কদর বেড়েছে পেঁয়াজের। সে কারণে চুরির সম্ভবণা বেড়েছে কয়েক গুন। তাই দিনের বেলায় হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর কৃষকরা রাত জেগে পেঁয়াজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। দিনের বেলায় পেঁয়াজ ক্ষেত পরিচর্যার পাশপাশি কঠোর নজরদারি চলছে। আর সন্ধ্যার পর টর্চ লাইট নিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকসহ স্বজনরা।

খাঁয়েরহাট গ্রামের আব্দুল জলিল রাতের কুয়াশা ঠেকাতে ক্ষেতের পাশে ছাউনি তৈরী করেছেন। সেখানে ভাতিজা সোহেল রানাকে নিয়ে চাদর গায়ে ও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে রাতে পাহারা দেন। তিনি বলেন, 'এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। চড়া দামের কারণে পেঁয়াজ চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় বেশি। তাই পাহারা দিতে হচ্ছে। আগে পেঁয়াজের ক্ষেত পাহারা দিতে হয়নি।'

পদ্মার চরের ৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছেন সরেরহাট পালপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন। তিনি বলেন, 'কোন পেঁয়াজ চাষীর চোখে ঘুম নেই। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মাঠে কাউকে না কাউকে থাকতে হচ্ছে পাহারায়। ফলন কম হলেও চুরির ভয়ে আর বেশি দামের আশায় ইতিমধ্যেই অনেকেই পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন।'

মশিদপুর গ্রামের আসলাম আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। যা পূর্ণ মৌসুমের তুলনায় অনেক কম। বাজারে চরের নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। আগের তুলনায় দাম অনেক কমে গেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, চলতি বছর বাঘায় পেঁয়াজ চাষা হয়েছে ৮৮০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে অনেকটা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে গেলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে বলে আশা করা যায়।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা