kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিআইও নুরুন্নবীর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ, ইউএনও অফিস ঘেরাও

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি    

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পিআইও নুরুন্নবীর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ, ইউএনও অফিস ঘেরাও

দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগে বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজের দেড় মাস পর আবারও সুন্দরগঞ্জে অফিস করা বিতর্কিত সেই পিআইও নুরুন্নবী সরকারের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ইউএনও অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলা জাপা।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জাপার নেতাকর্মীরা ইউএনও অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এদিকে, তার জোড় করে অফিস দখল করায় ক্ষোভে ফুলে-ফুটে উঠেছে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

এলাকাবাসী বলছে, বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবীর অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদে জোড় হতে থাকেন জাপার নেতাকর্মীরা। পরে পিআইও অফিস ঘেরাও করতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয় তারা। অবস্থানকালে পিআইওর অপসারণ দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন জাপার নেতারা।

এ সময় বক্তারা বলেন, সারা দেশে যখন দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে তখনো পিআইও নুরুন্নবীর মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দাপটের সাথে অফিস দখল করেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা রাজনৈতিক দল জাপা ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তাকে প্রতিহত করব। সেই সাথে আগামীকাল থেকে পুনরায় পিআইও নুরুন্নবীর অপসারণ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জাপার সভাপতি আব্দুর রসিদ ডাবলু, সর্বানন্দ ইউনিয়ন চাপার সভাপতি মশিউর রহমান, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মুক্তি, ছাত্র সমাজের সভাপতি সুলতান সুজন, নুর মোহাম্মদ রাফি, রাসেল প্রামাণিক, মোসলেম আলী ও জাতীয় পার্টির উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয়রাও তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে মিছিলে অংশ নেন।

অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জের সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার দাপট খাটিয়ে পিআইও অফিস দখল করায় তার অপসারণ দাবিতে একটি আন্দোলন কমিটি গঠন করেছে জাতয়ি পার্টি। উপজেলা জাপার সিনিয়র সহসভাপতি আনছার আলী সরদারকে আহ্বায়ক ও আব্দুল মান্নান মন্ডলকে সদস্য সচিব করে ১২৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্বে বির্তকিত এ পিআইওর অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা জাপার সিনিয়র সহ-সভাপতি আনসার আলী সরদার বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুন্নবী সরকারের সুন্দরগঞ্জে সপদে ফিরে আসার ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেনি। তাই নুরুন্নবী সরকার এ উপজেলা থেকে যতক্ষণ অন্যত্র সরে যাননি ততক্ষণ পর্যন্ত এ কমিটির নেতৃত্বে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এরআগে, গত রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে উপস্থিত হন নুরুন্নবী সরকার। এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকদের ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বদলির দেড় মাস পর আবারও সুন্দরগঞ্জে আসার খবরে সচেতন মহল ও গোটা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জনসাধরণের মাঝে ক্ষোভ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলহাজ মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘নুরুন্নবীর অফিসে আসার বিষয়ে একটি আদেশ ও যোগদান পত্র হাতে পেয়েছি। নুরুন্নবীর বদলির আদেশ স্থগিত ও যোগদানের কাগজ অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। আর কোনো নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন পিআইও মোশররফ হোসেন সুন্দরগঞ্জে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ, নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের একাধিক সংবাদ কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে বদলির আদেশ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে উল্টো বদলির কারণ জানতে সচিব, মহাপরিচালক ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকসহ ৭ জনকে উকিল নোটিশ পাঠান তিনি।

এ ছাড়া দুর্নীতির সংবাদ প্রচারে মানহানির অভিযাগে কালের কণ্ঠের সম্পাদক, বার্তা প্রধান, মফস্বল সম্পাদক ও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১২ গণমাধ্যম-মানবাধিকারকর্মী বিরুদ্ধে গত ১৬ অক্টোবর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা