kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাসপাতাল কম্পাউন্ডেই খেলাধুলা, শব্দবিভ্রাটে অতিষ্ঠ রোগীরা

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতাল কম্পাউন্ডেই খেলাধুলা, শব্দবিভ্রাটে অতিষ্ঠ রোগীরা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ডের মধ্যে এভাবেই দিনমান চলে খেলাধুলা। শব্দে অতিষ্ঠ এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা রায়পুরা। এখানে সাড়ে ৪ লাখ জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটির অবস্থান উপজেলার পৌর এলাকার তুলাতুলীতে। বিভিন্ন রোগে ও আহত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্যা রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। যার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র রোগীর সংখ্যাই বেশি। সরকারি এ হাসপাতালে সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে চলে খেলাধুলা। এতে করে খেলোয়াড়দের হই-হুল্লোড় আর চিৎকারে ও পাশের সড়কের গাড়ির হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ ভর্তিকৃত রোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি এ হাসপাতালের প্রাচীরের ভেতরের খোলা মাঠে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুবকরা সকাল-বিকাল ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাটমিন্টন খেলেন। ওই সময় খেলোয়াড়রা উচ্চস্বরে হইহুল্লোড় করেন, যার ফলে রোগীদের মধ্যে দেখা দেয় মাথা ধরা, ঘটছে ঘুমের ব্যাঘাত। অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়গুলো জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

এ ছাড়া এর পেছনেই রয়েছে রায়পুরা-মরজাল আঞ্চলিক সড়ক। ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। চালকদের অহেতুক হর্ন বাজানোর কারণেও হচ্ছে শব্দদূষণ। অপরদিকে হাতপাতালের পূর্ব প্রাচীরঘেঁষে গড়ে উঠেছে দোতলা একটি আবাসিক ভবন। এই ভবনের ময়লা, উচ্ছিষ্ট খাবার ও পলিথিন ব্যাগ ছুড়ে ফেলা হচ্ছে সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে। এতে দূষিত হচ্ছে হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা।

টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমেল জানায়, শব্দ দূষণের কারণে হাসপাতালে তার থাকতে ইচ্ছে করছে না। তাই দিনের খানিকটা সময় সে বাড়িতে কাটায়। অপর আরেক রোগী মো. বাহার বলেন, আমি ভাই কয়েক দিন থাকব, বলে লাভ কি হবে। আমার কথায় কি কোনো কাজ হবে।

স্থানীয় কয়েকজন জানায়, হাসপাতালের খোলা স্থানটিত দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করছে। তবে এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে নিষেধ করেছে কি-না তা তাঁরা জানাতে পারেনি। নাম প্রকাশের না করার শর্তে হাসপাতালের একজন সেবিকা (নার্স) বলেন, এখানে খেলাধুরার কারণে রোগীদের অসুবিধা হচ্ছে। আর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানে। কিন্তু জেনেও কখনও ব্যবস্থা নেয়নি। 

হাসপাতালের টিএস ডা. আবু সাঈদ শব্দ দূষণের কথা স্বীকার করে বলেন, খেলাধুলা বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারপরও যদি কেউ তা অমান্য করে খেলতে আসে তখন বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম কালের কষ্ঠকে বলেন, হাসাপাতালের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে খেলাধুলার বিষয়টি তিনি এতদিন জানতেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা