kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভেজাল সারে ফসল নষ্ট, দুই ডিলারকে জেল-জরিমানা

কৃষকদের ক্ষতি পূরণ করবে কে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভেজাল সারে ফসল নষ্ট, দুই ডিলারকে জেল-জরিমানা

ভেজাল সার ব্যবহার করায় হরিরামপুর উপজেলায় প্রায় তিনশ বিঘা সরিষা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দুজন সাব ডিলারকে ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল ও জরিমানা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কোনো লাভ হয়নি। তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে লেছড়াগঞ্জ, আজিমনগর ও সুতালড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বেশ কিছু কৃষক স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা বাবুল হোসেন,মুজিবর ও আলেক মিয়ার কাছ থেকে সার কিনে সরিষা ক্ষেতে ব্যবহার করে। কিন্তু এই সার ব্যবহার করার পরপরই গজিয়ে ওঠা চারা নেতিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মরে যায়। অথচ একই এলাকার অন্যান্য কৃষক যারা ওই তিন ব্যবসায়ীর সার ব্যবহার করেনি তাদের জমির সরিষা গাছের কোনো ক্ষতি হয়নি। সারে ভেজাল বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে কৃষকরা মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের হস্তক্ষেপে গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাবুল মিয়া ও মজিবুরকে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল হক। তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত সার ডিলাররা স্বীকার করেছেন, তারা ফরিদপুর থেকে ওই ভেজাল ডিএপি সার এনেছিলেন। অপর সাব ডিলার আলেক মিয়া পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়াও তিন জনের ডিলারশিপ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে এতে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ হয়নি। অভিযোগকারী কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে প্রতি বিঘা জমি হাল চাষ করতে খরচ হয়েছে ৯০০ টাকা। এক বস্তা ডিএপি সারের (ভেজাল) দাম নেয়া হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। ৬০০ টাকার ইউরিয়া এবং দুই কেজি সরিষা বিজ বাবদ ২০০ টাকা। এ হিসাবে সরিষা বপন করতে তাদের মোট খরচ হয়েছে তিন হাজার ৫০ টাকা। তাদের হিসাবে প্রতি বিঘায় কম করে হলেও ছয় মন সরিষা উৎপাদিত হতো। প্রতিমন সড়িসা কমপক্ষে ১৫শ টাকা দরে হলে মোট দাম পেত নয় হাজার টাকা। অর্থাৎ বিঘা প্রতি তাদের মোট ক্ষতি হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা