kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

টেকেরঘাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান

সংবর্ধনা বয়কটের ঘোষণায় দখলদারদের উচ্ছেদ করল প্রশাসন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংবর্ধনা বয়কটের ঘোষণায় দখলদারদের উচ্ছেদ করল প্রশাসন

ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত টেকেরঘাট সাবসেক্টরের ভূমি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত সমাবেশ স্থল থেকে দখলবাজদের উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। উচ্ছেদের আনন্দে মুক্তিযোদ্ধারা মিছিল করে শাসনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উচ্ছেদের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই স্থানে একটি মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাটে জেলা প্রশাসনের ১নং খতিয়ানের ৭৬ একর খাস ভূমি রয়েছে। এই ভূমিতে ১৯৬৫ সনে খনিজ প্রকল্প প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ১৯৭১ সনে এই খনিজ প্রকল্পটি টেকেরঘাট সাব সেক্টরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হতো। এ সময় মুক্তাঞ্চল ছিল এই এলাকা। যুদ্ধের পর বিসিআইসির শ্রমিকদের অফিসের সামনের উন্মুক্ত মাঠটি স্থায়ী একটি মঞ্চ করে বিজয় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতেন মুক্তিযোদ্ধারা। এখানে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ মুক্তিযোদ্ধারা নানা অনুষ্ঠান করতেন।

কিন্তু ২০১৫ সালে হঠাৎ করে উপজেলার তরং গ্রামের প্রয়াত আবদুর রউফ তালুকদারের ছেলে শামীম আহমদ তালুকদার ও স্বপন দাস নামের জনৈক ব্যক্তি দুটি ভবন দখল করে একটি কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠা করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছিল। একটি ভবন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারকে ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে আয় করছিল তারা। তাছাড়া মুক্তমঞ্চসহ মাঠকে অস্থায়ী দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলে। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় মঞ্চ থেকে উচ্ছেদ হন।

এর প্রতিবাদে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, উত্তর বড়দল ও দক্ষিণ বড়দলের শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা দখলবাজদের কবল থেকে বিজয় মঞ্চসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি উচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন। প্রশাসন আশ্বাস দিলেও দখলবাজদের রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ করছিল না। 

গত ৪ ডিসেম্বর তাহিরপুর মুক্ত দিবসে তিন ইউনিয়নের শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেন এই বিজয় মঞ্চ দখলমুক্ত না হলে তারা আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে প্রশাসনের সম্মাননা নেবেন না। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ উপজেলা প্রশাসনকে সময় ধরে দখলবাজদের উচ্ছেদে নির্দেশ দেন। 

জানা গেছে, উচ্ছেদের আগে উপজেলা প্রশাসন দখলবাজদের নোটিশ দেওয়ার পর তারা দখলের বিপরিতে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই ১০ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসন দখলবাজদের স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
 
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও বিজয়মঞ্চ উদ্ধার করায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনন্দ মিছিল করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সভাপতি রৌজ আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ মিছিল করে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মুক্তিযোদ্ধা রৌজ আলী বলেন, শহিদের রক্তেভেজা এই মাটি ও বিজয় মঞ্চ থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আমরা দখলবাজদের উচ্ছেদের দাবিতে অভিযোগ দিয়েছিলাম, আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু উচ্ছেদ হচ্ছিল না। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আমরা আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রশাসন কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ প্রশাসন দখলবাজদের কবল থেকে বিজয়মঞ্চসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান উদ্ধার করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীরেন ব্যানার্জী বলেন, এই সম্পত্তি সরকারি। দখলবাজরা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে ফায়দা লুটছিল। আমার নোটিশ দিলে তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। নিজেরাও স্থাপনা সরিয়েও নেয়নি। তাই আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে উচ্ছেদ করেছি। এখন এখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পাঠাগার করে দেব আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা