kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইটভাটা আইন না মানায় পাবনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

প্রথমদিনে ৩ ভাটা উচ্ছেদ, জরিমানা সাড়ে ৪ লাখ টাকা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইটভাটা আইন না মানায় পাবনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

ঈশ্বরদীর পদ্মানদীর পাড় ঘেঁষে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নেই গড়ে উঠেছে ৫৬টি ইটভাটা। এরমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাবনা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি বৈধ ইটভাটা। বাকি ৫৫টিই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত। তাই ইটভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ সংশোধিত ২০১৯ সালের ইটভাটা আইন না মানায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পাবনা জেলা প্রশাসন। 

আজ মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ অভিযানের প্রথমদিনে চারটি ইটভাটাতে অভিযান চালানো হয়। তিনটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে একটি পরিবেশ অভিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায় থাকায় সেটা গুঁড়িয়ে না দিয়ে জরিমানা করা হয়। আর দুই ভাটা থেকে জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটাগুলো হলো ফাইভ স্টার ব্রিক্স, বস ব্রিক্স, এম এন বি ব্রিক্স। সঙ্গে মের্সাস ডাক্তার ব্রিক্সের নিকট থেকে ২ লাখ টাকা এবং ফাইভ স্টার ব্রিক্সের নিকট থেকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনার সুপারিশক্রমে ও পাবনা জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা এবং নির্দেশনায় পাবনা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থানা পুলিশ, ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনা ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্র মতে, দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ইটভাটার মালিকরা লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে পদ্মানদীর পাড়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাবনা জেলা প্রশাসনের কোনোরুপ ছাড়পত্র না নিয়ে ইটভাটা আইন না মেনে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটার মালিকই পদ্মানদী থেকে মাটি কেটে ভাটায় ব্যবহার করেন। তাছাড়া লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন একটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। ধান, গম, শরিষা, কলাই, মসুর, ভুট্টা, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, কলা, ধনিয়া, গাজর, কপি,কলা, লাউ, মুলা, গাজর, করলা, উস্তে, শিম, মরিচ, বরবটি, শসা, বিভিন্ন ধরণের শাক এবং লিচু, আম, বড়ই, কাঁঠাল, পেঁয়ারা, মেহগুনিসহ বিভিন্ন ধরণের বৃক্ষে ভরা এসব মাঠ। কিন্তু ভাটাগুলো এসব ফসল, সবজির উর্বর ও সমতল ভূমি দখল করে গড়ে উঠেছে। ভারী যানবাহন চলাচল করায় লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তা দিয়ে কোমলমতি শিশু ও কিশোররা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। 

সূত্রগুলো জানায়, একদিকে ইটভাটার মালিকরা সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে কোনোরুপ ছাড়পত্র নিচ্ছে না। তারপরও ফসলী এবং সমতল জমি থেকে মাটি কেটে জমিগুলো অনাবাদি করে ফেলছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রতি বছর ইটভাটার মালিকরা সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।

অন্যান্য সূত্র মতে, ইটভাটার মালিকার পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্রের কোনোরুপ তোয়াক্কা না করে শুধু মাত্র লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ হাজার টাকার ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ভাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৫৬টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাত্র ভাটা বৈধ। বাকি ৫৫ টি অবৈধ। কোনোরুপ ছাড়পত্র নেই।

তিনি জানান, চলতি ভাটা মৌসুমে ৩৯টি ইটভাটা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। অন্যগুলো চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভাটাগুলোতে ছাড়পত্র না থাকায় পাবনা জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় মঙ্গলবার অভিযানের প্রথম দিনে চারটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। তিনটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর গুঁড়িয়ে দেওয়া একটিসহ আরও একটি থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। 

অভিযান পরিচালনাকারী পাবনা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ্ত রায় দীপন কালের কণ্ঠকে জানান, ইটভাটার লাইসেন্স, জ্বালানি ও অবস্থানগত তিন আইনের আওতায় লক্ষ্মীকুন্ডার অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। উৎসক জনতা থাকলেও বাঁধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযান অব্যহৃত থাকবে।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জিয়াউল হক জিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, ইটভাটাগুলো থেকে ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৫ হাজার টাকা ও ইউপির উন্নয়ন কর বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। 

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, ইটভাটাগুলো সবই অবৈধ। ভাটাগুলো বৈধভাবে ইটভাটাগুলো পরিচালনার জন্য আবেদন করেও নানাবিধ কারণে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন প্রতিটি ভাটা থেকে বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাঁদা দেওয়া হয়। পুলিশ লাইনে বহুতল ভবণের জন্য সমস্ত ইট বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। তারপরও উচ্ছেদ অভিযান চলে।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ইটভাটার মালিকদের অবৈধভাবে ভাটার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাই অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা