kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আত্মহত্যা নয়, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শরীফাকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আত্মহত্যা নয়, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শরীফাকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রী শরীফা আক্তার (২৪) ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেননি, তাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শরীফা লাশের ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

শরীফাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়া হয় উল্লেখ করে তার বাবা মো. মজিবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেশটিগেশনের কাছে মামলাটি হস্তান্তরের আবেদন করেছেন মজিবুর রহমান। 

এতে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর পুলিশ ভুল বুঝিয়ে মজিবুর রহমানকে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করিয়েছেন। এমনকি দুটি তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করে উল্টো বাদীকে হয়রানি করেছেন।

শরীফা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহলে মিয়া ওরফে হুসাইন একই এলাকার আক্কাছ মিয়ার ছেলে। শরীফা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার বাসায় ভাড়া থেকে পড়াশুনা করতেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ১২ সেপ্টেম্বর মজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণায় অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সোহেল প্রায়ই শরীফা আক্তারকে উত্ত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে বিদেশে গিয়েও ফোনে তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিদেশ থেকে ফিরে শরীফার বোনের বাড়ি বিজয়নগরে গিয়েও সোহেল তাকে উত্ত্যক্ত করে।

মজিবুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরু থেকেই ধারণা করছিলাম শরীফাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনোভাবেই সেটা মানতে চাচ্ছিল না। পুলিশের চাপাচাপির কারণেই আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করি। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে পুলিশকে জানালেও তারা কর্ণপাত করেননি। আসামিকে না ধরে উল্টো আমাকে হয়রানি করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।’ মেয়ে হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘দুটি রিপোর্টই আমার হাতে এসেছে। ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে শরীফাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। শরীফার গলায় আঙ্গুলের ছাপও রয়েছে। তাকে যে হত্যা করা হয়েছে সেটি স্পষ্ট।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাদী পক্ষ মামলাটি তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা