kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি    

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তস্থাপনকারী শহীদ সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুরস্কার 'বীরশ্রেষ্ঠ' পদকে ভূষিত করা হয়। সেই সাতজনের মধ্যে একজন বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন। ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বিজয়ের প্রাক্কালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গানবোট 'পলাশ' বাঁচানোর চেষ্টায় বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন তিনি। দেশের জন্য অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হলেও আজ নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত জাতীর এই বীর সন্তান।

নোয়াখালী জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পার হতে চললেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে নেই কোনো স্থাপনা, নেই কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হল, ভবন, ভাস্কর্য নেই জাতির এই বীর সন্তানের নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন একটি হলসহ পাঁচটি আবাসিক হল থাকলেও কোনোটিতেই এই বীরশ্রেষ্ঠের ঠাঁই হয়নি। রুহুল আমিনের জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবস পালন করা হয় না এই বিদ্যাপীঠে। হয় না তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে কোনো আলোচনাসভা।

জাতির এই বীর সন্তানের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও না-থাকাটা লজ্জা ও দুঃখজনক বলে মনে করছেন নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলো নামকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নামে নামকরণ করা হয়। কিন্তু নোয়াখালী তথা গোটা দেশের গর্ব এই বীরশ্রেষ্ঠ নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত। কেন অবহেলিত- এই প্রশ্নের দ্রুত সমাধান চান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও  সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এ ব্যাপারে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের দৌহিত্র সোহেল চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের  নামই বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তখনকার রাজনৈতিক বিতর্কে তা হয়নি। এ নিয়ে আমাদের কোনো আফসোস নেই। আজ হোক আর পঞ্চাশ বছর পর হোক, জাতি ঠিকই এই নামগুলো খুঁজে নেবে তাদের ইতিহাসের প্রয়োজনে। বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিনের পুত্রবধূ রাবেয়া আক্তার বলেন, কি আর বলব বলেন। দেশের জন্য আমার শ্বশুর এতকিছু করেছেন কিন্তু, আমার শ্বশুর আজ তার জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত। খুবই দুঃখজনক। আপনারা সাংবাদিকরা আছেন আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন শুধু নোয়াখালী নয়, সারা দেশের গর্ব। শিগগিরই আমরা আলোচনা করে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে স্থাপনার নামকরণ করব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা