kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

প্রমাণ সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে : খুবি উপাচার্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:৫১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রমাণ সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে : খুবি উপাচার্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এবং বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রায় সর্বাংশে দুর্নীতি হয়েছে সম্প্রতি এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনে প্রেস কনফারেন্স করেছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগপত্রে খুবির কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হল, অপরজিতা হল, গেস্ট হাউজ, লাইব্রেরি ভবনসহ নতুন ভবন নিমার্ণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন।

দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই তা নিরূপণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অনুসন্ধানকারী কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ভবনের পুরুত্ব কম হবার প্রমাণ মেলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় একই ঠিকাদার দিয়ে ভবনটির রেটরোফিটিং করা হয়। এ সব কাজের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। ভবনের দুর্নীতির বিষয়ে খুবি প্রশাসনের গঠিত নির্মাণ সংস্থা ও তদারকি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের দায়-দায়িত্ব নিরুপণের পৃথক দুটি কমিটি ও দুদকের তদন্ত চলমান। তবে উক্ত ভবনে বিদ্যুত বিষয়ক দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে খুবি প্রশাসন। 

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হলের পুনটেন্ডারের ফলে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব তা কর্তৃপক্ষের বোধগম্য নয়। অভিযোগে যে ২৩টি ত্রুটি বা সমস্যার কথা বলা হয়েছে তা পূর্ব নির্মিত ভবনের। ভবনটির ব্যবহারের পর স্বাভাবিকভাবেই এসকল ত্রুটি ধরা পরে যা একই ঠিকাদারকে দিয়ে ঠিক করা হয়। তবে নতুন নির্মিতব্য ভবনে এমন কোনো ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং পূর্বের বিল্ডিংয়ের ত্রুটিগুলোর সুপারিশ এখানে করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনটির নির্মাণ কাজ যেহেতু চলমানাধীন সেহেতু ১৯০ জন শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি অবাস্তব।

চলমান নির্মাণ কাজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যাপারে যদি অসঙ্গতি, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, অনিয়মের অভিযোগ দৃষ্টিগোচর হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য আরো জানান, যেহেতু দুদক খুবির উক্ত দুটি ভবনসহ নির্মাণকাজের অনিয়ম, ত্রুটি ও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখছে সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পত্র দিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বাঁধা আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে রয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দুদকের পত্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে কেউ পার পেয়ে যাবে-তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপারে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চলমান প্রকল্প ২০১৬ সালের মে মাসে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজগুলো দুই ভাগে বিভক্ত করা হয় ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সম্পূর্ণ নতুন স্থাপনা নির্মাণ।

তদন্তে ধীর গতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তন এবং ঠিকাদারদের অসহযোগিতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত বিষয় অনুসরণ করতে গিয়ে অনেকটাই সময় চলে যায় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যা নিরসনেও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তার রিপোর্ট পেতেও বিলম্ব হয়। এক্ষেত্রে কবি জীবনানন্দ দাশ ভবনের নির্মাণ ত্রুটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কাদের গাফিলতি রয়েছে সে ব্যাপারে একটি দায়-দায়িত্ব নিরুপণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় এক বছর যাবত তার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। এটা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিত হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ প্রায় সকল ভবনেই বিদ্যুৎ কার্জে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম দুদকে চিঠি দিয়েছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন কাজও করছে। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজের সাথে যে সকল প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন তারা দায়িত্বে অবহেলার জন্য আইনের আওতায় আসবেন। ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে তা অবশ্যই দুদক বিবেচনায় নেবে। 

আসন্ন সমাবর্তন সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার অথবা উপাচার্য হিসেবে দ্বিতীয় টার্মে তাঁর নিয়োগের শেষ বছর উপনীত হওয়ায় কোনো মহল সক্রিয় কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, তিনি সেটা বিশ্বাস করতে চান না। কেননা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীসহ সবাই মিলে সুনাম ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। সেটা ক্ষুণ্ণ হোক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কারও তা কাম্য হতে পারে না।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা