kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তৃণমূল চায় ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন

হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:১৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা

আগামী ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। সম্মেলনের স্থল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিমতলায় করা হয়েছে বিশাল আকৃতির প্যান্ডেল। হবিগঞ্জে প্রথমবারের ন্যায় মঞ্চ করা হয়েছে নৌকার আদলে। চারিদিকে লাগানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। মাইকিং করা হচ্ছে শহর ও শহরতলীতে।

আজ সোমবার বিকেলে প্রচার মিছিল করেছে জেলা যুবলীগ মঙ্গলবার করবে জেলা ছাত্রলীগ।

এদিকে সম্মেলনে হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য অনুসারে এবারও যেন ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হয় সেই দাবি তৃণমূলের। আবার অনেকেই কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন ভোট ছাড়াই যেন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ইতোমধ্যে ৮ পদে ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে আবেদন করেছেন।

হবিগঞ্জের নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ আদিল জজ মিয়া বলেন, তৃণমূলের কাউন্সিলাররা ভোট ছাড়া আর কিছুই মানেন না। হবিগঞ্জে ৯৩ সালের পর ৪টি সম্মেলনেই ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করায় হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত হয়েছে। বার বার এখানে নৌকা বিজয়ী হয়েছে। আর তৃণমূলের সাথে যে সকল নেতার যোগাযোগ নেই তারাই নির্বাচনকে ভয় পায়। এ ধরনের নেতা নির্বাচিত হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের কাউন্সিলে কর্মীবান্ধব নেতা যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন তার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রে বিএনপিরও ইন্দন আছে। কারণ এখানে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে লাভ হবে বিএনপির।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ বলেন, হবিগঞ্জে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই রেওয়াজ নেই। তাই অনেক স্থানেই কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়। হবিগঞ্জের অনেক নেতা কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি তৃণমূল এর নেতারাই আমাদেরকে নির্বাচিত করবেন। কয়েকদিন পূর্বে চট্টগ্রাম উত্তরের কমিটিও হয়েছে ভোটের মাধ্যমে।

এদিকে কাউন্সিলার তালিকা চূড়ান্ত হতে বিলম্ভ হওয়ায় অনেক প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছেন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুল বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলার হওয়ার যে প্রক্রিয়া সেখানে তালিকা পাওয়ার আগেই বলা যায় কারা কাউন্সিলার হবেন। সকল উপজেলা কমিটির সিনিয়র নেতা এবং ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখানে কাউন্সিলার হন।

জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে কাদা ছুড়াছুড়িতে ব্যস্থ রয়েছেন। অনেকেই কেন্দ্রে গিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করেছেন। আবার অনেকেই ফেইসবুকে প্রচারণা ও বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করছেন। যা অতীতে কখনও হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি বলেন, অনেকই নির্বাচন আর কাউন্সিল আসলেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেন। তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ের  নেতাকর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। তারা ঝোপ বুজে কোপ মেরে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালান। তারাই কাউন্সিলে ভোটকে ভয় পান।

১১ ডিসেম্বর সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিমতলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকেলে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবা উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান, র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির এমপি ও আধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি, সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন, সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফজলে আলী ও অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপি, অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিক ও মোতাচ্ছিরুল ইসলাম মনোনয়ন দাখিল করেন।

৩টি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান তালুকদার, মর্তুজা হাসান, অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমেদ, জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, নিজামুল হক রানা, অ্যাডভোকেট সুমঙ্গল দাশ সুমন, অনুপ কুমার দেব মনা, আলমগীর খান, মর্তুজ আলী, অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটো, সৈয়দ কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, মাহবুবুল আলম মালু, অ্যাডভোকেট মো. আবুল আজাদ মনোনয়ন দাখিল করেন।

৩টি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মশিউর রহমান শামিম, অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ, নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, আহাদ মিয়া, আব্দুল মুনতাকিম চৌধুরী খোকন, ফয়জুল বশির চৌধুরী সুজন মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, হবিগঞ্জে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। তাই হবিগঞ্জকে আওয়ামী লীগের মডেল জেলা বলা হয়। এবারও ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে। ৩৫৯ জন কাউন্সিলার প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা