kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধার ছেলে পরিচয়ে ভাতা তুলছেন জামায়াত নেতা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধার ছেলে পরিচয়ে ভাতা তুলছেন জামায়াত নেতা

সুনামগঞ্জে জামায়াতের এক কোষাধ্যক্ষ নিঃসন্তান প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করছেন। প্রতারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর সোমবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনের অনুলিপি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। এদিকে জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া পরিচয়ে ভাতা উত্তোলনের আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

লিখিত আবেদন থেকে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সরদারপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ২০০৮ সালে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর কিছুদিন পরেই ২০০৯ সালে মোহনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও একাত্তরের শান্তি কমিটির তালিকাভূক্ত সদস্য আনজব আলীর কাছ থেকে সরদারপুর গ্রামের মৃত আফতর আলীর ছেলে ইউনিয়ন জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের ছেলে পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন নেন। মো. আব্দুল লতিফ ২০১৮ সালের ২০ মার্চ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের ছেলে পরিচয় দিয়ে এফিডেভিট করেন। তার এই এফিডিভেটে সত্যায়ন করেন জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট হেলাল উদ্দিন।

২০১৭ সালের ২ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের ছেলে মর্মে উত্তরাধিকারী সনদপত্র দেন মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হক। ২০১৭ সনের জুলাই মাস থেকে মো. আব্দুল লতিফ মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভাতা উত্তোলন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কমিটিও প্রভাবিত হয়ে ভাতাপ্রাপ্তিতে অনুমোদন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। জামায়াত নেতা আব্দুল লতিফ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে প্রতি মাসে দলীয় তহবিলেও টাকা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এদিকে ভাতা উত্তোলনের পরেই আব্দুল লতিফ নিজের পুরনো ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিনের ছেলে পরিচয়ে সেটা সংশোধন করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে আব্দুল লতিফের নামের ভোটার তালিকাও পাননি।

মোহনপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সাখাদ আলী বলেন, আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াত সময়ে জয়নগর বাজারে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে মিছিল সভা হতো। জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ লতিফের কারণে আমরা তার ভয়ে থাকতাম। সে আমিসহ দুই মুক্তিযোদ্ধার বন্দোবস্তকৃত জায়গা দখল করার চেষ্টাও করেছে। মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন মারা যাবার পরই সে ভুল তথ্য দিয়ে তার পিতার নামে নাছির উদ্দিনকে পিতা দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করেছে। এই প্রতারক প্রতারণা করতে করতে অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়েও প্রতারণা করেছে। তার কঠিন শাস্তি চাই।

আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর বলেন, আব্দুল লতিফ নামের জনৈক ব্যক্তি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের ভুয়া সন্তানের পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা উত্তোলন করছে। অথচ নাসির উদ্দিন ছিলেন নিঃসন্তান। আব্দুল লতিফের স্কুল, জমি ও সম্পদের কাগজপত্রে তার পিতার নাম আফতর আলী লেখা রয়েছে। ভাতা উত্তোলন করতে প্রতারণার মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামায়াতের এই নেতা এখন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাত করছে। তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে আমি লিখিত আবেদন করেছি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সমীর বিশ্বাস বলেন, এ সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছি। আমি সমাজসেবা অফিসকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা