kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ফিরে দেখা ৭৫

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে নির্যাতিত তিনবন্ধুর খবর রাখেনি কেউ

এম এম আলী আক্কাছ, গুরুদাসপুর (নাটোর)   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে নির্যাতিত তিনবন্ধুর খবর রাখেনি কেউ

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ করায় নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন বন্ধুকে দুই বছর ডিটেনশন ও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তাদের পক্ষে কথা বলারও কেউ ছিল না। মুজিব হত্যার ৪৩ বছর কেটে গেলেও তাদের খোঁজ নেয়নি কেউ।

ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ এ তিনবন্ধু প্রবীর কুমার বর্মণ, নির্মল কর্মকার ও অশোক কুমার পালকে ১৯৭৫ সালে 'রক্তের বদলে রক্ত চাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই' শ্লোগানে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করার অপরাধে আটক করে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। টানা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

সে সময় অন্যায়ভাবে আটক করে তাদের জীবনকে বিপন্ন করে দেওয়া হয়। জীবনের সোনালি সময়ে গড়তে দেওয়া হয়নি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। জেল থেকে মুক্তির পরও তারা ভয়ে ভয়ে থাকতেন। কখন জানি তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে ওই তিন বন্ধুর বসবাস। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের জীবন চলছে সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে।

মুজিবভক্ত প্রবীর বর্মণ বলেন, কষ্ট সয়ে দুই মেয়ে কৃপা ও তৃষাকে এমএ পাস করিয়েছি। তাদের চাকরি হয়নি। ছেলে প্রসেনজিৎ বিএ পড়ছে। স্ত্রী সন্ধ্যা অসুস্থ। প্রবীর থাকেন ছোট ভাইয়ের ইলেকট্রিক দোকানে। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে সংসারের খরচ জোগাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।

আরেক বন্ধু নির্মল কর্মকার বলেন, মেয়ে তাপসিকে এমএ পাস করালেও অর্থাভাবে দুই ছেলে তনয় ও শুভকে আইএ পাশের পর আর পড়াতে পারিনি। তারা একটি রঙের দোকান চালায়। স্বাচ্ছন্দে চলার পথতো পঁচাত্তরেই রুদ্ধ হয়ে গেছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভাব অনটন বাড়ছে। টানাপোড়েন জীবনে সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারলাম না- এটাই আফসোস।

অপর বন্ধু অশোক কুমার পাল বলেন, আমার সংসারের হাল শক্ত করে ধরতে পারিনি। গান শিখিয়ে যা মাইনে পাই বউয়ের হাতে দেই। দুই মেয়ে মুনমুন ও অন্তরা। অন্তরা এমএ পাস করলেও চাকরি জোটেনি কপালে। গান গাই, গান শিখাই আর ঘুরে বেড়াই। না পাওয়ার বেদনায় অন্তরে অসুখ থাকায় মনে শান্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনবন্ধু ১৫ আগস্ট এলে উপোস থাকেন আর বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনা করেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বাস্তবায়ন হওয়া। মুজিব হত্যার ৪৩ বছর কেটে গেলেও কেউ তাদের খোঁজখবর নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারপরও তাদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা