kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

আট ডিসেম্বরে আটে নামল তাপমাত্রা

বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আট ডিসেম্বরে আটে নামল তাপমাত্রা

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ আরো বেড়েছে। দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে আসছে। রবিবার অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এই শীতে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বেশ কয়েকদিন থেকেই পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। গত শনিবার পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরে হিমালয় থেকে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাসে গা হিম হয়ে আসে। অসম্ভব ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাপমাত্রা শূন্যের দিকে নেমে আসে। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি। রাতে কুয়াশাপাতের কারণে পথঘাটে হেডলাইট জ্বালিয়েও যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভোরে চারপাশ কিছু সময় হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা।

প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত চরম দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ রাত কিংবা ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেন। সকাল ৮টার পর সূর্যের দেখা মিললে খানিক উষ্ণতা পাওয়া যায়। এ সময় শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে রোদ পোহাতে দেখা। তবে সূর্যের তাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ২১ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তা জেলার বিরাট অঙ্কের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় খুবই বলে জানান স্থানীয়রা।

তেঁতুলিয়া বাসিন্দা বৃদ্ধ আছমত আলী বলেন, ‘দিনেত তাহো কনেক বেড়া যাছে, আতিত হাত পাও শিক লগে অচ্ছে। ঠান্ডাত ঘুমা না যায় বা।’

এছাড়া শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বেশি। শীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শীতজনিত শতাধিক রোগী বহির্বিভাগ থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। যারা বেশি অসুস্থ তারা কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় মারাত্মকভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকের ৩৬টি পদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। এই শীতে ইনডোর ও আউটডোরসহ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সকাল থেকেই রোগীদের লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে। তাই মেডিক্যাল অফিসারদের পাশাপাশি বহির্বিভাগের রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টরাও।

পঞ্চগড় সদরের গোয়ালপাড়া এলাকার সুমাইয়া আক্তার সুমি বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ায় আমার দেড় বছরের ছেলের হঠাৎ করেই ঠান্ডা লেগে গেছে। বুকে কফ বসে গেছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই নিরুপায় হয়ে মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টদেরকেই দেখিয়ে ওষুধ নিলাম। খাইয়ে দেখি কমে কিনা।    
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা বলেন, দেশের অন্য স্থানের তুলনায় পঞ্চগড়ের শীতের প্রকোপ একটু বেশিই থাকে।

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। শীতের প্রকোপ বাড়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে শতাধিক শীতজনিত রোগী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যারা বেশি অসুস্থ্য তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কেউ কেউ তাদের রোগী নিয়ে রংপুর দিনাজপুর ছুটছেন। রোগীর চাপ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ে দিন দিন শীতের প্রকোপ বাড়ছে। তাপমাত্রা ক্রমেই কমে আসছে। রোববার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এই শীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ডিসেম্বরে দুএকটি মৃদু ও মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে শীতের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক কুয়াশা থাকলেও এবার ভিন্নরকম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত অসম্ভব ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশা নেই বললেই চলে। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মেলায় খানিকটা উষ্ণতা পাওয়া যায়।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, প্রায় ২১ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ শীতার্তদের হাতে এই শীতবস্ত্র তুলে দেবেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা