kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবীনগরে ১৫ মাস ধরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে ১৫ মাস ধরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই

সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে ১৫ মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন করে কমিটি গঠিত না হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই বিজয়ের এই মাসেই ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে এখানকার সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ। ওইসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের স্বাক্ষরযুক্ত এক চিঠিতে এসব কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সেসময় নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগে আবদুল্লাহ আল রোমান সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল মামুন সাধারণ সম্পাদক, পৌর ছাত্রলীগে মোজাম্মেল হক লিমন সভাপতি ও নাজমুল হাসান জেমস সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে আরিফুল ইসলাম রাজীব আহ্বায়ক ও নাছির উল্লাহ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে জেলা ছাত্রলীগ সবগুলো কমিটি একযোগে ভেঙে দেওয়ায়, সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ছাত্রলীগের একাধিক নেতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, সেসময় ছাত্রলীগে কোনো নিষ্ক্রিয়তা ছিলো না। মূলত একটি বিশেষ মহলকে খুশী করতে জেলা ছাত্রলীগ সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিকভাবে তখন রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের সবগুলো কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন।

তবে ১৫ মাস আগে ভেঙে দেওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সেই কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনও বলেন, ওই সময় জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে কোনো ধরণের শোকজ না করে কমিটিগুলো যে আচমকা ভেঙে দিয়েছিলেন, এটি শতভাগ সত্য। যার কারণে বিগত ১৫ মাসেরও বেশী সময় ধরে নবীনগরে ছাত্রলীগের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে।

তবে ভেঙে দেওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান এমপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত আবু ছায়েদ বলেন, কমিটিগুলো ভেঙে দেবার পর বর্তমান সংসদ সদস্য অনেকদিন আগেই একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়ে রেখেছেন। আশা করছি, বিজয়ের এই মাসেই নতুন কমিটি আমরা পাবো।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন আজ দুপুরে কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, নবীনগরের সবগুলো কমিটির কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় থাকায় সেসময় গঠনতান্ত্রিকভাবেই কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। তবে খুব শিগগিরই আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করবো।

এদিকে নবীনগরের বর্তমান এমপির দেওয়া প্রস্তাবিত একটি আহ্বায়ক কমিটির প্রাপ্তি স্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের এই তরুণ নেতা আরো বলেন, এমপি মহোদয়ের দেওয়া প্রস্তাবিত কমিটিতে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবিবাহিত, রানিং স্টুডেন্ট ও সর্বোচ্চ ২৯ বছর বয়স থাকার তিনটি মূখ্য বিষয় যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে আজ রবিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুলের মুঠোফোনে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা