kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

চাটমোহরে এখনও শুরু হয়নি ধান ক্রয়

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাটমোহরে এখনও শুরু হয়নি ধান ক্রয়

চলতি মৌসুমে সরকারের খাদ্য বিভাগের আমন ধান সংগ্রহ অভিযান পাবনার চাটমোহর খাদ্য গুদামে এখনও শুরু হয়নি। কবে নাগাত এ ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে এর সঠিক তথ্য দিতে পারছে না উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগ। লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় ধান কেনা শুরু করতে পারছে না এমন কথা বলছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। তবে হতাশ অনেক কৃষক আক্ষেপ নিয়ে বলছেন, 'কৃষকের ঘরের ধান শেষ হলে তবেই শুরু হবে ধান কেনা'।

জানা গেছে, কৃষকের জমির উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সরকার কর্তৃক প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট মূল্যে উপজেলা ভিত্তিক খাদ্য গুদামের মাধ্যমে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু প্রতি বছরই খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ এমন সময় শুরু করা হয় সে সময় কৃষক তাদের ধার দেনা মেটাতে আগেই বাজারে স্বল্প মূল্যে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে করে শুধু নামেই কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বলে জাহির করা হলেও প্রকৃত পক্ষে অধিকাংশ কৃষকই খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান দিতে পারে না। এই সুযোগে খাদ্য গুদামের লক্ষ মাত্রা অর্জনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কৃষকের প্রাপ্য সুযোগ গ্রহণ করে ধান সরবরাহ করে থাকে। এই চিত্রটা চাটমোহর উপজেলার সকল ইউনিয়নের কৃষকের ক্ষেত্রেই।

কৃষকেরা বলছেন, খাদ্যশস্যের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার প্রতিবছর ধান কিনলেও চাষিরা এতে খুব একটা লাভবান হচ্ছেন না। কারণ, কৃষকের গোলা শূন্য হলে শুরু হয় ধান কেনা। এতে ফড়িয়া-ব্যবসায়ীরাই লাভবান হন। কৃষকের ঘরে ধান উঠেছে ১৫/২০ দিন আগেই। অধিকাংশ কৃষক ধার দেনা করে ফসল উৎপাদন করে। ঘরে ফসল উঠলেই তারা হাটে বাজারে সেটা বিক্রি করতে বাধ্য হয় ধার দেনা পরিশোধ করতে। সঠিক সময়ে সরকারের ধান সংগ্রহ অভিযান পরিচালিত হয়না বলে অধিকাংশ কৃষক খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারে না। আবার অনেক কৃষক খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে সঠিক আদ্রতা নেই, পরিমাপ ঠিক নেই নানা অযুহাতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা কৃষকদের নাজেহাল করে থাকেন। সুতরাং নানা প্রতিকুলতায় একজন প্রকৃত কৃষক খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ থেকে বরাবরই বঞ্চিত থাকছে।

মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, প্রতি বছরই শুনে আসছি খাদ্য গুদামে ধান নেওয়া হয়। এ যাবৎকালে কখনই আমি খাদ্য গুদামে ধান কিভাবে দিতে হয় জানলাম না। আমি একজন কৃষি কার্ডধারী স্বীকৃত কৃষক। শুনেছি লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের মাধ্যমে এবারও ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে কবে নাগাত হবে আমরা হয়তো জানতেও পারবো না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষি কার্ডধারী কৃষকদের তালিকা তৈরি শেষ হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবাই বগুড়ায় একটি ট্রেনিংয়ে আছেন। তারা চলে আসলে লটারি সম্পন্ন করে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকের ধান খাদ্য গুদামে নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যত সম্ভব দুই তিন দিনের মধ্যেই লটারি হবে এবং কৃষক নির্ধারণ করার পরেই শুরু হবে ধান ক্রয়। কার্ডধারী প্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কোনোভাবেই ধান সংগ্রহ করার অবকাশ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ইতিমধ্যে ধান সংগ্রহ অভিযানের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব বগুড়া আছেন। উনি আসলে আগামী ১০ তারিখে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে আশা করছি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা