kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধামইরহাটে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবকের মৃত্যু

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধামইরহাটে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবকের মৃত্যু

নওগাঁর ধামইরহাটে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আতিয়ার হোসেন (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো সাত জন। নিহত আতিয়ার হোসেন উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের অন্তর্গত দেবীপুর গ্রামের সাইজ উদ্দিনের ছেলে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সালেহা বেগম নামে মহিলাকে আটক করেছে।

গ্রামবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের অন্তর্গত দেবীপুর গ্রামের সাইজ উদ্দিনের ৫৮ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়ি নিয়ে একই গ্রামের মৃত খোকার ছেলে জিয়াউল হক জিয়া সাথে বিরোধ বাঁধে। গত ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে জিয়া ও তার মামাতো ভাই আইয়ুব হোসেনসহ প্রায় ২০ থেকে ২২ জন লোক সাইজ উদ্দিনের বসতবাড়ি নিজেদের দাবি করে দখল করতে আসে। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে সংষর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে সাইজ উদ্দিনে পক্ষে সাইজ উদ্দিন, আতিয়ার, আব্দুর রশীদ, সামসুদ্দিন, সাইজ উদ্দিনের দুই মেয়ে সাহানাজ, তানজিলা এবং সাইজ উদ্দিনের পুত্রবধূ রাবেয়া অপর পক্ষের জিয়া সামান্য আহত হয়। এদের মধ্যে মারাত্মক আহত আতিয়ার হোসেন গতকাল শনিবার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঘটনার দিন রাতে জিয়ার মামাতো ভাই আইযুব হোসেন থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ওই রাতে থানা পুলিশ আতিয়ারের মা আফরোজা বেগম বুলু এবং তার বোন সাহানাজকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে গতকাল শনিবার রাতে নিহত আতিয়ারের চাচাতো ভাই আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ওই মামলার আসামি ঝন্টু মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৫) কে আটক করেছে। এদিকে মামলার অপর আসামিরা পলাতক রয়েছে। প্রায় ১ মাস পূর্বে ওই আসামিরা নিহত আতিয়ার হোসেনকে আক্রমণ করেছিল। এ ব্যাপার আতিয়ার থানায় মামলাও দায়ের করেছিল।

আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আতিয়ার হোসেনের লাশের ময়না তদন্ত শেষে রবিবার বিকেলে তার গ্রামের বাড়িতে আসলে শোকের ছায়া নেমে আসে। আতিয়ার মা আফরোজা বেগম ও তার বোল সাহানাজের জামিনের পর লাশ দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, নিহত আতিয়ারের চাচাতো ভাই বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ একজনকে আটক করে কোর্ট কারাগারে প্রেরণ করেছে। বাকী আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা