kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নওগাঁয় তিন দিনব্যপী জাতীয় নজরুল সম্মেলন শুরু

নজরুল ছিলেন বাংলা সাহিত্যে এক যুগপ্রবর্তক কবি: খাদ্যমন্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৪:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নজরুল ছিলেন বাংলা সাহিত্যে এক যুগপ্রবর্তক কবি: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলা সাহিত্যে এক যুগপ্রবর্তক কবি। সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের অগ্নিমন্ত্র বাঙালি জাতির চিত্তে প্রেরণা ও আত্মশক্তিতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুকঠিন সংকল্প জাগিয়েছিল। কবির স্বদেশ প্রেম, স্বদেশ বন্দনা, স্বদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ এবং স্বদেশকে অন্য সকল কিছুর উর্ধ্বে স্থান দিয়েছিলেন। তার দেশ বন্দনা, দেশ প্রশস্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু আগে থেকেই বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল। তার লেখনী চিরদিনই শোষন-বঞ্চনা, অন্যায় অত্যাচার, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে আপোষহীন ছিল।

মন্ত্রী রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিন দিনব্যপী জাতীয় নজরুল সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বর্তমানে রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাটোর এর প্রফেসর ও ডীন ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী ও নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. রাশিদুল হক। এ অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল গবেষক ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. সৈয়দা মোতাহের বানু। 

এ ছাড়াও এ অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় নাটোরের রেজিস্ট্রার কে এম আব্দুল মোমিন এবং নওগাঁ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শরিফুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম। 

খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগ্রহ, অনুপ্রেরণা এবং উদ্যোগে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়েছিল। তারই সদিচ্ছায় কবিকে জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ কবিকে স্বাগত জানিয়েছেন, ভালোবেসেছেন। আজও কবির সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধি সৌকর্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছে।  

তিন দিনব্যপী আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলার ৫০ জন শিল্পীকে নজরুল সংগীতের শুদ্ধ বাণী ও সুরে নজরুল সংগীতের প্রশিক্ষক সৃজনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান, জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে সংগীতানুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান, শহরের নওগাঁ সরকারি কলেজ ও নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজে পৃথক দুটি আলোচনাসভা, পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ এবং জেলার ১০টি স্কুলে পৃথক পৃথক প্রতিযোগিতার আয়োজন। 

এ ছাড়াও অনুষ্টানস্থলে প্রতিদিনি বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলার আয়োজন রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা