kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

'চরিত্রহীন' অপবাদ দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটলেন আওয়ামী লীগ নেতা!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'চরিত্রহীন' অপবাদ দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটলেন আওয়ামী লীগ নেতা!

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূর চুল কেটে নিয়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতা। অভিযোগ রয়েছে, নিজের লালসা পূরণ করতে না পেরে ২ সন্তানের জননী গৃহবধূকে 'চরিত্রহীনা মিথ্যা অপবাদ' দিয়ে বটি দিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়েছে উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগীরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল গ্রামে ২৫ নভেম্বর রাতে। নির্যাতিত গৃহবধূর নাম বিলকিস খাতুন। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় ওই নেতা ও তার ৪ সহযোগীর বিরুদ্ধে ২ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিতা গৃহবধূ। মামলার পর থেকে প্রাণভয়ে ওই গৃহবধূ পার্শ্ববর্তী তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আর ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে। পুলিশ এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। 

থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও নির্যাতিতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় গজাইল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী বিলকিছ খাতুন আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভাড়া হোন্ডার খোঁজে বের হন। পথিমধ্যে একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলামের বাড়ির পাশে যেতেই সেখানে তাকে অতর্কিত আটকিয়ে ফেলেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগীরা। তারা গৃহবধূ বিলকিস খাতুনকে সাইফুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আটক করেছে বলে চিৎকার করে লোকজন জোগাড় করে। এ খবরে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে সেখানে তাৎক্ষণিক সবার সামনে মাছকাটা বটি দিয়ে দ্রুত ওই গৃহবধূর চুল কেটে দেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগীরা। এ সময় নানা কাকুতি-মিনতি করেও কারো বিন্দুমাত্র সহয়তা পায়নি ওই গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর চুল কেটে উল্লাস প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা। রাতেই তারা গৃহবধূ বিলকিসের মাথার পুরো চুল কেটে দেওয়ার জন্য গজাইল বাজারে শরিফ নামে এক সেলুন শ্রমিকের কাছে কাঁচি আনতে যায়। কাঁচি দিতে রাজি না হওয়ায় ওই সেলুন শ্রমিককে তারা মারধর করে বলে সেলুন শ্রমিক এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। 

ঘটনার পর সেখান থেকে পালিয়ে ওই গৃহবধূ তার সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী তরফ বায়রা গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে পুরো ঘটনা পরিবারের কাছে খুলে বলে। নিকট আত্মীয়দের সহায়তায় ২ ডিসেম্বর ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদসহ একই গ্রামের মোজাহারের পুত্র মুনসুর, বাহের আলীর পুত্র ছালাম, নাসির ও শহিদুল ইসলামকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে। উল্লাপাড়া মডেল থানার এসআই মো. হাফিজ তদন্ত করছেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। 

নির্যাতিত গৃহবধূ বিলকিস জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ আগে থেকেই তাকে নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার বাড়ির ডিশ সংযোগ কেটে দেওয়ার পর থেকে তার সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন থেকে তাকে নানাভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, আমি নিরাপরাধ। আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সবার সামনে মাথার চুল কাটা হয়েছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না। এমনকি বাড়ির বের হতে পারছেন না। তারা মামলা তু্লে নিতে চাপ প্রয়োগ সহ দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। তিনি তার সাথে ঘটে যাওয়ার ঘটনার সুষ্ট তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ দাবি করেন, তিনি ওই গৃহবধূর চুল কাটেননি। অসামাজিক কার্যকালাপে জড়িত থাকার সময় গ্রামবাসী তাকে লোকজন নিয়ে আটক করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। স্থানীয় একটি মহল এ ঘটনায় তাকে জড়িত করে ওই গৃহবধূকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। 

উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলতে বলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা