kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সোনামসজিদ বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনামসজিদ বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ২৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ভারতীয় পাথর আমদানি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক। এ বন্দরে প্রধান আমদানি পণ্য তালিকায় রয়েছে ভারতীয় পাথর।

সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক সেলিম রেজা জানান, সোনামসজিদ স্থল বন্দরের প্রাইভেট অপারেটর পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড পাথর আমদানিতে ট্যারিফ (শুল্ক) বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানিকারকরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছে। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়ায় শ ট্রাক পাথর আমদানি হয়। সরকারি রাজস্ব ছাড়া ট্রাক প্রতি বন্দর ট্যারিফ হিসেবে পূর্বে ৭৮৩ টাকা পরিশোধ করছিল আমদানিকারকরা। কিন্তু হঠাৎ করেই ট্যারিফ বৃদ্ধি করে টন প্রতি আরো ১৬২ টাকা নির্ধারণ করে পানামা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে আমদানিকারকরা। তারা ১৭ নভেম্বর থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয়।

সোনামসজিদ স্থল বন্দর আমদানি-রপ্তানীকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বন্দর চালুর পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখেনি পানামা। উল্টো বন্দরের অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তাদেরকে বাইরে মালামাল খালাস করতে হয়।

তিনি বলেন, ভারতের মোহদীপুর প্রান্তে অতিরিক্ত খরচ, ডাম্পিং, পাথরের গুণগতমান নিম্ন, ধুলাবালি মিশ্রিত পাথর, একাধিক সাইজের মিশ্রিত পাথরসহ নানা অসুবিধায় এতদিন চরম বেকায়দায় ছিলেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে নতুন করে পানামা অতিরিক্ত ট্যারিফ সংযোজন ও বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাসের ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবসায় লোকসান ঠেকাতে বাধ্য হয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে পাথর না আসায় আমদানিকারকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, তেমনি সরকারও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

স্থল বন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতের মোহদীপুরের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ভারতের মালদা জেলার শুশ্বতানী মোড় এলাকায় পাথর ডাম্পিং এরিয়া থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পাথরবাহী ট্রাকের জন্য আমদানিকারকদের গুনতে হয় ৩৫/৪০ হাজার ভারতীয় রুপী। যা অস্বাভাবিক বলে আমদানীকারক ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস। তারা জানান, ফিটনেস বিহীন, লক্কর-ঝক্করও মার্কা মেয়াদ উত্তীর্ণ ভারতীয় ট্রাকে পাথর নিয়ে আসে তারা। ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলে পড়ে থাকে ১৫/২০ বা তার চেয়েও বেশী দিন।

সোনামসজিদ স্থল বন্দরের মুল আমদানি পণ্য পাথর না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থলবন্দরের পেশাজীবী সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। বন্দর শ্রমিকরা জটিলতায়, তাদের দিন কাটছে অলসভাবে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে তাদের পেটে ভাত জুটবে না বলে আক্ষেপ করেন স্থল বন্দরের শ্রমিক আবু হোসেন ও লিয়াকত আলী। তারা দাবি করেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সোনামসজিদ স্থল বন্দরকে সচল করার।

সোনাসমজিদ স্থল বন্দর শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান জানান, পাথর আমদানিতে পানামা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমদানিকারকদের শুল্ক জটিলতার পাশাপাশি ভারতের মোহদীপুর শুল্ক স্টেশনে ট্রাক পার্কিং জোন দখল নিয়ে ব্যবসায়ীদের মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সোনামসজিদে ব্যবসা শুন্য হয়ে পড়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে কর্মহীন থাকায় কুলি-শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বন্দরে পাথর আমদানি না হলে সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে বলে দাবি করেন এই শ্রমিক নেতা।

প্রাইভেট অপারেটর পানামা-সোনামসজিদ পোর্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মইনুল ইসলাম জানান, ট্যারিফ সংযোজন পানামার নিজস্ব কোনো বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এর উপর রয়েছে ভারতের মোহদীপুর শুল্ক স্টেশনের রপ্তানীকারক ও ব্যবসায়ীদের ট্রাক পার্কিং জোনের দখল নিয়ে জটিলতা।

বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কর্মাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সমস্যকে দুই দেশে জটিলতা হিসেবে চিহ্ন করে চলমান জটিলতা উত্তোরণে মালদার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কাস্টমস কমিশনার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুরুপ কর্মকর্তার সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় এ সমস্যা মেটানো দূরুহ হবে। কারণ, মোহদীপুরের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চলমান থাকলে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের আমদানিকারকরা স্বাচ্ছান্দে ব্যবসা করতে পারবেন না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা