kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

গোপন সমঝোতা, সরকারি দামের অর্ধেকে নিলাম!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোপন সমঝোতা, সরকারি দামের অর্ধেকে নিলাম!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে বিজিবি জওয়ানদের হাতে আটক ২০৮ বস্তা ভারতীয় মজা সুপারি নিলামে বিক্রিতে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম ভেঙে কোনো প্রচার প্রচারণা ছাড়াই এক প্রকার গোপনেই ওই নিলামের আয়োজন করে কাস্টমস অফিস। নিলামের আগে আখতার হোসেন নামে কাস্টমস কর্মকর্তা ব্যবসায়ী শফিয়ার রহমানের সঙ্গে এক লাখ টাকার সমঝোতা করেন বলে জানা যায়। সমঝোতা অনুসারে ওই ব্যবসায়ীকে ১০ লাখ টাকার সুপারি মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করেন। এতে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। আজ শুক্রবার রাজীবপুর বাজারের সুপারি ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের কাছে ওইসব অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগে জানা গেছে, গতকাল বৃহষ্পতিবার রাজীবপুরের বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্পে ২০৮ বস্তা ভারতীয় সুপারির নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতি বস্তায় দুই হাজার করে সুপারি রয়েছে। প্রতি বস্তা সুপারির বর্তমান মূল্য ছয় হাজার টাকার ওপরে। এ হিসেবে ২০৮ বস্তা সুপারির বাজার দর ১২ লাখ টাকার ওপরে। যার সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ লাখ টাকা।

শহীবর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ‘কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেন এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ১০ লাখ টাকার সুপারি মাত্র চার লাখ ৬২ হাজার টাকা নিলামে বিক্রি করেন। আমাদের নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি।’

রাজীবপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই নিলামের কোনো প্রকার মাইকিং বা প্রচার করা হয়নি। নিলামে দুর্নীতি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টির তদন্ত দাবি করছি।’

উল্লেখ্য যে, বুধবার দিবাগত রাতে বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানরা উপজেলার ব্যাপারি পাড়ার গ্রামের ফরিজল হক ওরফে ফরিজল মেম্বারের বাড়ি থেকে অবৈধ মজুদ করার অপরাধে ২০৮ বস্তা ভারতীয় সুপারি জব্দ করে। তবে ফরিজল হক বলেন, ‘বর্ডার হাটে ক্রয় করা বিভিন্ন ক্রেতার কাছ থেকে তিনি ওই সুপারি কিনে নিয়েছেন। কিন্তু বিজিবি জওয়ানরা অবৈধভাবে জোরপূর্বক আমার বাড়ি থেকে সুপারির বস্তাগুলো নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আমি বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, ‘এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি একেবারেই মিথ্যা। প্রকাশ্যে নিলামে সর্ব্বোচ্চ দরদাতার কাছেই নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের পরে কে কি বলল তা আমার দেখার সময় নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা