kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নান্দাইলে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও নবম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নান্দাইলে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও নবম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন

ছবি প্রতীকী

‘ছেড়িডার পরিবার গরিব, তাছাড়া বয়স কম অইলে কি অইবো, শইল্যে-গর্তে (লম্বা ও স্বাস্থ্য ভালো) ঠিকই অইছে’- শুক্রবার ময়মনসিংহের নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের শফিকুল আকন্দের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে নীলিমা আকন্দের (১৪) বিয়ে সম্পন্ন হয়। আর এ বিয়ে বাড়িটি স্থানীয় ইউপি সদস্যের বাড়ির পাশে। এ ব্যাপারে ওই ইউপি সদস্য হেলেনা আক্তার নিজেকে রক্ষা করতে ওপরের কথাগুলি বলে যুক্তি দেখান। অন্যদিকে পৃথক ঘটনায় একই উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বিলভাদেরা গ্রামে জেএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানার বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে আদালতে এফিডেফিট করে বয়স বাড়িয়ে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বিয়ে বাড়িতে পাঠালেও বিয়ে দুইটি বন্ধ করা যায়নি।

অথচ গত ১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগকে বাল্য বিয়ে মুক্ত করার জন্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সেই মোতাবেক সকল জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন স্থরের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। তারপরও বন্ধ করা যাচ্ছে না বাল্য বিয়ে।

শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় এই দিনটাকেই বেছে নেয় পরিবারের লোকজন। স্বস্ব ইউনিয়নের নিকাহ নিবন্ধকরা (কাজি) স্বশরীরে উপস্থিত না থেকে ওইসব বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের নীলিমাকে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের হেল্প লাইন ‘১০৯’ এ ফোন দেয় এলাকাবাসী। এ ফোন পেয়ে গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে নান্দাইল থানা থেকে পুলিশ যায় ওই বাড়িতে। কিন্তু এর আগেই গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করে কনে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় বর পক্ষ। স্থানীয় চেয়ারম্যান জানান, তিনিও ১০৯-এ ফোন পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কনেকে পাননি। জানতে পেরেছেন তড়িঘড়ি করে কনেকে নিয়ে চলে যায় বরপক্ষ।

অন্যদিকে একই উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বিলভাদেরা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৩) স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছিল পাশের খলাপাড়া গ্রামের রহিমের ছেলে মিজানের সাথে বিয়ের দিন। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা আক্তার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুকন উদ্দিনসহ ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠান। সেখান থেকে জানানো হয় গত ১৫ দিন আগে ছেলে-মেয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে গিয়ে এফিডেফিটের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে বিয়ের কাজ (কোর্ট ম্যারেজ) সম্পন্ন করে ফেলেছে। শুক্রবার ছিল বন্ধের বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের দিন। এ অবস্থায় দুইটি স্থানেই বাল্য বিয়ের অপরাধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার মাহমুদা আক্তার বলেন,সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ডেকে এনে ওই দুই পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা