kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিঙ্গাইরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিঙ্গাইরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

ঘরে ঢুকে ধর্ষণের পর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ছমিরন (৪৫) নামে এক বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ছমিরন উপজেলার গোলাইডাঙ্গা বাস্তা গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক রোকমান হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রোকমান একই উপজেলার ব্রি-কালিয়াকৈর গ্রামের আমোদ আলীর ছেলে।

মামলার এজহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে ছমিরনকে বাড়িতে একা রেখে পরিবারের সব সদস্য স্থানীয় আশরাফিয়া জামিয়াতুল মাদ্রাসায় ওয়াজ শোনার জন্য যান। ওয়াজ শেষে রাত পৌনে একটার দিকে বাড়িতে আসার পথে নিহত ছমিরনের ভাবি সেবিকা আক্তার সুমিসহ স্বজনরা বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় রোকমানকে দ্রুত হেঁটে যেতে দেখেন। বিষয়টিতে সন্দেহ হয় তাদের। বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর খাটের ওপর ছমিরনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদসহ আশপাশের লোকজনকে জানান তারা।

নিহতের ভাবি সেবিকা আক্তার বলেন, ঘটনাটি জানার পর ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদসহ এলাকার লোকজন রাত তিনটার দিকে রোকমানকে ধরে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন রোকমান জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ছমিরনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ঘাতক রোকমানের বরাত দিয়ে সেবিকা আক্তার সুমি আরো জানান, ৬-৭ বছর আগে ছমিরনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় রোকমান। এরপর বিভিন্ন সময় অনেক চেষ্টার পরও তার মনোবাসোনা পূর্ণ করতে পারেননি তিনি। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে ছমিরনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রোকমান। ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পাশের রান্নাঘর থেকে ধারালো বটি এনে ছমিরনকে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়।

থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুর সাত্তার মিয়া জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে রোকমান হোসেনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোকমান ধর্ষণের পর ছমিরনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো বটি ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী সেবিকা আক্তার থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত রোকমানকে আজ শুক্রবার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা