kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সরকারি সুযোগ সুবিধা

বড় দুই সহোদরের লিখিত অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সরকারি সুযোগ সুবিধা

মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিতর্কিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভাতাসহ সকল প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধার সহোদর বড় দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক জামুকার ডিজিকে লিখিত অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিতর্কিত এই মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আলমগীর হোসেন হিরু। সে মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিনের ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিনের চার ছেলে সন্তানের মধ্যে আলমগীর হোসেন হিরু সবার ছোট। হিরুর বয়স যখন ৭ তখন তাদের বাবা মারা যান। পরে বড় তিন ভাই তাকে লালন পালন করে বড় করেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হিরুর বয়স ১০/১২ বছর ছিল।

বড় দুই ভাইয়ের দাবি আলমগীর হোসেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি। অথচ মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করে সরকারি সম্মানি ভাতা নিচ্ছেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় তার এক ছেলেকে পুলিশে ও মেয়েকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দিয়েছেন। এছাড়া অপর ছেলেকেও একইভাবে পুলিশে চাকুরি দেয়ার চেষ্টা করছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন হিরুর আপন বড় দুই ভাই আব্দুল বাছেদ মুন্সী (৭৮) ও বাবলু মিয়া ওরফে বাবু মিয়া (৭৫) গত ১৪ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক গত ২ ডিসেম্বর জামুকার ডিজিকে ওই লিখিত অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আব্দুল বাছেদ মুন্সী ও বাবলু মিয়া ওরফে বাবু মিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিতর্কিত করবে তা নিজেদের বিবেক মেনে নিতে পারেনি বলে মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তারা বলেন, বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি বাড়ি থেকেই এভাবে প্রতিবাদ করা উচিত। অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে তারা আলমগীর হোসেন হিরুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ/গেজেট স্থগিত করে সম্মানি ভাতা, সন্তানদের চাকরি থেকে বহিষ্কারসহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জাপুর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল মির্জাপুর, সভাপতি সম্পাদক টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, প্রেসক্লাব মির্জাপুর ও রিপোটার্স ইউনিটি মির্জাপুর বরাবর প্রেরণ করেছেন।

বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন হিরুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুর মুক্তিযোদ্ধা পৌর কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তিনি যে যুদ্ধে গিয়েছিলেন তা তার বড় ভাইয়েরা ও গ্রামের লোকজন জানেন না বলে জানান। কোন বাহিনীতে যুদ্ধ করেছেন জানতে চাইলে তিনি কাদেরের বাহিনীর নাম বলেন। কাদেরের পুরো নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেননি।

মির্জাপুর পৌর কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী আলমগীর হোসেন হিরু নামে কোন মুক্তিযোদ্ধাকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার সরকার হিতেষ চন্দ্র পুলকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আলমগীর হোসেন হিরু নামে কোনো ব্যক্তির নাম লাল মুক্তি বার্তায় নেই।

একই গ্রামের বাসিন্দা ও মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস বলেন, আলমগীর হোসেন হিরু যে একজন মুক্তিযোদ্ধা ২০১০ সালের জুনে মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেখে আমি তা প্রথম জানতে পারি।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, যেহেতু পরিবার থেকে মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা