kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

পাথরঘাটায় দাফনের ৫ মাস পর আটক সেই মৃত ফারুক!

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাথরঘাটায় দাফনের ৫ মাস পর আটক সেই মৃত ফারুক!

ফারুক আকন (মাঝে)

বরগুনার পাথরঘাটার বিষখালি নদীতে জেলেদের জালে হাত পা বাঁধা মাথা বিহীন লাশ নিজের দেবর ফারুকের বলে সনাক্ত করে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে দাফন করে মৃতের ভাবী রেহানা বেগম। ঘটনাচক্রে প্রমাণ হয় মস্তকবিহীন লাশ বরগুনা সদর উপজেলার মো. সোহেল খানের। কিন্তু হত্যা মামলার সুরাহা করতে মাঠে নামে পুলিশ এবং ধরে ফেলে ফারুককে।
বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকার করে তার পালিয়ে থাকার কথা।

পাথরঘাটা থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালিয়াঘাটা গ্রামের রেহানা বেগম গত ৩০ জুলাই পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে তিনি তার দেবর ও জালিয়াঘাটা গ্রামের মৃত হাতেম আলী আকনের ছেলে মো. ফারুক আকন ৬ জুলাই থেকে নিখোজ বলে উল্লেখ করেন। এক পর্যায়ে নিখোঁজ ফারুকের ভগ্নিপতি মো. হানিফা পাথরঘাটা থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহারের আসামী না করলেও প্রতিবেশীদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের কথা বলা হয়।

থানায় অভিযোগের ১০ দিন পরে পাথরঘাটার বিষখালি নদীতে জেলেদের জালে হাত-পা বাঁধা মাথাবিহীন লাশ পাওয়া গেলে স্বজনরা ওই লাশটি ফারুক আকনের বলে সনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে দাফন করে।

এদিকে ওই লাশ দাফনের ১৫ দিন পর বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আ. রহিম খানের ছেলে মো. সোহেল খানের লাশ বলে দাবি করেন মা লাইলি বেগম। পাথরঘাটা থানায় সংরক্ষিত লাশের সাথে থাকা সাইকেলের চাবি ও জামা দেখে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টে এর প্রমাণ মিললে আদালতের মাধ্যমে লাশ উত্তোলন করে সোহেলের নিজ বাড়িতে মৃতদেহ দাফন করে।

মাথাবিহীন লাশের পরিচয় নিশ্চিত হলে পুলিশ তদন্তে নামে জোরেশোরে। নিখোজঁ ফারুক খানের অর্ন্তধানের রহস্য উদঘাটনের সূত্র খুঁজতে গিয়ে সন্ধান মেলে ফারুক আকনের। কখনো ঢাকা কখনো নোয়াখালীতে সে ফেরি করে ডিম বেচাসহ নানা কাজে জড়িত ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ জানতে পারে নিখোঁজ বলার পরেও স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছে ফারুক।

বিষয়টি জানিয়ে পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মো সাঈদ আহমেদ বলেন, তিনিই ফারুককে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পাথরঘাটায় নিয়ে আসেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ ফারুকের রিমান্ড আবেদন করে। পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারুককে জেল হাজতে পাঠায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা