kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমতলীতে সুপারির বাম্পার ফলন, মিলছে না দাম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমতলীতে সুপারির বাম্পার ফলন, মিলছে না দাম

বরগুনার আমতলীতে এ বছর সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। বাজারদর কম থাকায় হতাশ আমতলীর গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও বাগানে প্রায় ৩/৪ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এ বছর এসব বাগানের সব গাছেই সুপারি ধরেছে। 

বাগান মালিকরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। সেই ফুল থেকে সৃষ্টি হয় সুপারি, যা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে পুরোপুরি পেকে যায়। আশ্বিন মাসের শেষ দিকে বাজারে সুপারি আসতে শুরু করে। মূলত কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। এখন উপজেলার প্রতিটা বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিক্রির জন্য সুপারি আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই সুপারি কিনে ৬০ শতাংশ পানিভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রাখেন। ৪০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কম হওয়ায় হতাশ গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার সুপারি বিক্রির প্রধান বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী পৌরশহর, তালুকদার বাজার, কলাগাছিয়া, গাজীপুর বন্দর, টেপুরা, বান্দ্রা, গুলিশাখালী, আমড়াগাছিয়া, গোজখালী, আড়পাঙ্গাশিয়া, বিশ্বাসেরহাট, মুন্সীরহাটসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট ব্যবসা। এ সকল বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে তাদের চাহিদামত স্থাণীয় পাইকারদের কাছ থেকে সুপারি কিনে নিচ্ছেন। এসব বাজারে ১ কুড়ি সুপারি (২২০) মানভেদে ২২৫ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কম বলে জানাচ্ছেন গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

আমতলী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গুলিশাখালীর শাহআলম মিয়া বলেন, এ বছর সুপারির ভালো ফলন হলেও গত বছরের তুলনায় বাজারে দাম কম।

অপর ব্যবসায়ী কার্তিক চন্দ্র জানান, এই উপজেলায় প্রায় ৩/৪ হেক্টর জমি ও গৃহস্থদের বাড়ির আঙিনায় সুপারির বাগান রয়েছে। এ বছর বিভিন্ন গৃহস্থদের বাগানবাড়িতে সুপারীর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, এ বছর উপজেলার সুপারি বাগানের মালিকরা সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করায় সুপারির এমন ফলন হয়েছে। বাজারে কাঁচা-পাকা সুপারীর দাম না থাকায় গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা