kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ইমরানের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ইমরানের

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম দ্বীপচর গাবগাছির ইমরান হাসানের স্বপ্ন কি অবশেষে ধরা দিল? বুধবার কালের কণ্ঠে ’টাকার অভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না দুর্গম চরের হতদরিদ্র ইমরান’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন। টাকার চেক পেয়ে খুশিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমরান।

এর আগে বুধবার শুভসংঘের ঢাকাসহ সারা দেশের কর্মীরা ইমরানের জন্য সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিভিন্ন মহলের কাছে সহায়তা দানের অনুরোধ জানান। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে গাবগাছি যেতে প্রায় তিন ঘণ্টার নদী পথ পেরুতে হয়। গাইবান্ধার শুভসংঘের বন্ধুরা ইমরানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথেও কথা বলেন।

জেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদা মাহমুদ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জমি-বসতভিটা হারানো বাবা কোমর আলী মন্ডল ও মা জাহানারা বেগমের তার সাত ছেলেমেয়ের মধ্যে পঞ্চম ইমরান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে তার ভর্তি হওয়া হচ্ছিল না। ইমরান গাইবান্ধায় আসার পর জেলা প্রশাসকের ডাক আসে। তিনি বলেন, গাইবান্ধার পৌর কাউন্সিলর ও সমাজসেবী মতলুবুর রহমানও ইমরানকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরো অনেকে যোগাযোগ করছেন।

ইমরানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কখনো উপবৃত্তি, কখনো টিউশনি করে এতদূর এসে হঠাৎ থমকে যাচ্ছিল তার জীবন। জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ আর এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পায় সে। এইচএসসিতে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয় সে। মেসে থাকা খাওয়ার খরচ জুটেছে ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে।

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অসহায় ইমরানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তিনি তাকে ডেকে নেন। তিনি বলেন, কালের কণ্ঠের ভূমিকা প্রশংসনীয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা