kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

কলেরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ লক্ষাধিক স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলেরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ লক্ষাধিক স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে কলেরা রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার কলেরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ লক্ষাধিক স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রাখা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণে আনার অংশ হিসেবে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫ জনকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা। এর মধ্যে অধিকাংশই স্থানীয়। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন। শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। বুধবার বিকেলে জেলা ইপিআই স্টোরের সম্মেলন কক্ষে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উখিয়া-টেকনাফে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন পঞ্চম বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চেয়ে স্থানীয়রাই বেশি থাকবে ওসিভি ক্যাম্পেইনের আওতায়। এবারের ক্যাম্পেইনে কলেরা টিকা খাওয়ানো হবে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫ জনকে। এর মধ্যে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠী চার লাখ ৯৫ হাজার একশ ৯৭ জন। অন্যদিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এক লাখ ৩৯ হাজার আটশ ৮৮ জন। স্থানীয়দের ক্ষেত্রে এক বছরের ঊর্ধ্বে সকল বয়সী লোকজন আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এক বছর থেকে পাঁচ বছরের নিচে শিশুরা ওসিভি টিকা পাবে। উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টিকা খাওয়ানো ৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে টিকা খাওয়ানো হবে ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ডা. জামশেদ বলেন, সর্বশেষ ওসিভি ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৭ নভেম্বর। সেই ক্যাম্পেইনের আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ছিল বেশি। আর রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় কিছু সংখ্যক স্থানীয় লোকজনকে খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ওসিভি ক্যাম্পেইনের আওতায় কম থাকবে। বেশির ভাগ স্থানীয় লোকজনকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা। 

ডা. জামশেদ আরো বলেন, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফে একশ ৩৩ জন কলেরা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন স্থানীয় আর ৭৭ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর। উখিয়াতে কলেরা রোগী সনাক্ত হয়েছে স্থানীয় আট জন আর রোহিঙ্গা ১৩ জন। টেকনাফে কলেরা রোগী সনাক্ত হয়েছে স্থানীয় ৪৮ জন আর রোহিঙ্গা ৬৪ জন। 

ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন বলেন, এবারের ক্যাম্পেইনে টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য ব্যাপক কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করা হয়েছে। সফলভাবে ওসিভি ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হলে কলেরা ঝুঁকি থেকে মুক্ত হবে উখিয়া-টেকনাফ। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সবাইকে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। 

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, নিরাপদ পানি এবং সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে কলেরা রোগ হচ্ছে। এটি একটি পানিবাহিত রোগ। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা