kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বেরোবিতে দুই ইউনিটে ফেল করেও 'বি' ইউনিটে প্রথম!

বেরোবি প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেরোবিতে দুই ইউনিটে ফেল করেও 'বি' ইউনিটে প্রথম!

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় দুইটি ইউনিটে ফেল করলেও ‘বি’ ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হয়েছেন মোছা. মিশকাতুল জান্নাত নামে এক ভর্তিচ্ছু। মিশকাতুল জান্নাত বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার গোসাইগাড়ী ইউনিয়নের এনামুল বারীর মেয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিশকাতুল ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ১৯ নভেম্বর সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় শিফটে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-১৪১৭৫২) অকৃতকার্য হন মিশকাতুল। একইভাবে ‘এফ’ ইউনিটেও চতুর্থ শিফটে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-৬৪১৭৫১) অকৃতকার্য হন তিনি। কিন্তু ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান) মানবিক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাজিমাত করেন মিশকাতুল জান্নাত। তিনি এমসিকিউয়ে ৮০ নম্বররে মধ্যে ৬৭ দশমিক ২৫ পেয়েছেন। যা অন্য কোনো ইউনিটে আর কেউ পাননি। তার ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষার রোল ২৪০২৭৮। মিশকাতুল জান্নাতের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

আরও জানা যায়, তার বড় বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। নিজের ছোটবোন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। মিশকাতুল জান্নাতের সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মিশকাতুল জান্নাত দ্বিতীয় মেয়াদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক সোহেলা মুশতারী বলেন, ইমরানা বারীর ছোটবোন এখানে পরীক্ষা দিয়েছে সেটা আমাদেরকে তিনি লিখিতভাবে জানাননি। যখন মিশকাতুল এডমিশনের জন্য আসল, তাকে আমরা চিনতাম। ফেসবুকে ছবি দেখেছি। মিশকাতুল জান্নাতকে দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি যে, এই মেয়ে এখানে কেন? এবং মোটেও আমরা খুশি হইনি। আমরা সত্যিকারার্থেই খুশি হইনি। খুশি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালটির উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা