kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

গাইবান্ধায় গৃহবধূরা যখন ফুটবলার!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় গৃহবধূরা যখন ফুটবলার!

গাইবান্ধার ফুলছড়ির বুড়াইল স্কুল ও কলেজ মাঠে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা। ব্যতিক্রমী এই অর্থে যে, যারা ফুটবল চর্চা করেন না, সেই শৈশবে বউছি, দাড়িয়াবান্ধা খেলার অভিজ্ঞতা সম্বল এমন নানা বয়সী গৃহবধূরা হয়ে গেলেন ফুটবলার। তাদের উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখলে মুগ্ধ হতেই হয়! আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়া নারী দিবসে নারী ফেডারেশন প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করে এই খেলার।

এবার মেঘনা আর যমুনা নামে দুই দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামেন উড়িয়া, গজারিয়া আর উদাখালী ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের নারীরা। মাঠে নেমে ফুটবলারদের মতো অনুশীলন আর পরামর্শের ধরণ দেখে মনে হচ্ছিল এটা খেলা নয়, যেন যুদ্ধ। শত শত সমর্থকদের উল্লাস আর উত্তেজনা ছিল খেলোয়ারদের চাইতেও বেশি। মাঠের লড়াই ছিল আক্রমণ প্রতিআক্রমণে ভরা। কোনো ছাড় নেই! তারা জানালেন, সারা বছর এলাকার নারীরা, এমন কি পুরুষরাও অপেক্ষো করে থাকেন এই খেলার জন্য।

মাঠে দুপুর থেকেই আসতে শুরু করেন নারীরা। উদাখালী থেকে আসা তরুণী গৃহবধূ শামসী আরা বেগম বলেন, এই মাঠে এসে গতানুগতিক জীবনের বাইরে এক ভিন্ন বিনোদন পাওয়া শুধু নয়, নারীদের আলাদা করে দেখার যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তা কিছু সময়ের জন্যও ভুলে আছি।

প্রধান অতিথি ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ  বলেন, চারদেয়ালে বন্দি থাকা আর পরিবারের নানা অনুশাসনের মধ্যে গৃহবধূরা নিজেকে খুঁজে পান না। এভাবে হারিয়ে যায় তাদের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ। খুশি, আনন্দ, কর্মস্পৃহা ঢাকা পরে একটা নির্দিষ্ট ছকের আবরণে। এ ধরণের আয়োজন তাদের উজ্জীবিত করবে।

আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়কারী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এটি শুধু খেলা হিসেবে দেখলে চলবে না। নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিযোগিতার মাঠে উপস্থিত ছিলেন খ্যতিমান মঞ্চ, টিভির জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের নারীদের এই সাবলীল অংশগ্রহণ তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, পুরুষ ও নারী একসাথে কাজ করলে আমাদের সমাজ বিকশিত হবে। নারীকে তাচ্ছিল্য করার দিন শেষ হয়েছে। অন্যদিকে সময়ও এসেছে নারীদেরও নিজেদের প্রমাণ করার।

টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলায় যমুনা দল ২-১ গোলে মেঘনাকে হারিয়ে তুলে নেয় বিজয়ীর সম্মান। খেলা শেষে পড়ন্ত বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমনোয়ারা বেগম, বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া, নারী ফেডারেশনের সভাপতি লাকী বেগম প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা