kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিদেশে লোক পাঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশে লোক পাঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

বিদেশে লোক পাঠানোর ঝামেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের লাথি, কিল, ঘুষিতে প্রাণ গেল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বাবুল মিয়ার ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোর ছেলে কামরুল ইসলামের (১৫)।

ময়না তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দোস্তপুরে এসে পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। রাত ৮টায় জানাজা শেষে তার দাফন সস্পন্ন হয়।

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত কিশোরের বাড়িতে নীরবতা। তার মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না, শুধু চোখ থেকে জল পড়ছে।

নিহত স্কুলছাত্রের বাবা বাবুল মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছতা আনতে ১২ বছর আগে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার নাজির বাজারে ভাড়াটিয়া বাসা নিয়ে বাসবাস করে আসছিলাম। ট্রলি চালিয়ে সংসার আর সন্তানের লেখাপড়া খরছ চালিয়ে আসছি। কিন্তু একটি বিরোধের কারণে আমার নিরাপরাধ ছেলের প্রাণ হারাতে হবে এটা ভাবতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে কেন গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গেলাম। যদি নিজ বাড়িতে থাকতাম তাহলে ঘাতকের হাতে আমার ছেলে খুন হতো না। তার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেছেন তিনি।

এলাকাবাসী ও মামলার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে বাবুল মিয়া তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার নাজির বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় তিনি একজন ট্রলি চালক। নাজিরবাজারের পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথ থানার বর্মদা গ্রামের ফজর আলী সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল বাবুল মিয়ার। সে সুবাদে বাবুল মিয়াকে ফজর আলী জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে চান। তখন কথা প্রসঙ্গে ট্রলি চালক বাবুল মিয়া ফজর আলীকে বলেন, তার ছোট ভায়রা নাম সালাউদ্দিন তিনি কাতারে থাকেন। আপনি চাইলে, সালাউদ্দিন ও আমার শ্যালিকার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। পরে ফজর আলী আমার ভায়রার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ছোট ছেলে আল আমিনকে ৪ থেকে ৫ মাস পূর্বে বৈধভাবে কাতারে পাঠান। কাতারে ভিসা এবং কাজ নিয়ে সালাউদ্দিনের সঙ্গে আলা আমিনের দ্বন্দ্ব হয়। বিষয়টি সমাধানে বাবুল মিয়া চেষ্টা চালালেও ফজর আলী এবং তাদের লোকজন হুমকি দিতে থাকে তাকে। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে রাতে ফজর আলীর গংরা তার বাসায় গিয়ে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে কালি স্ট্যাম্প স্বাক্ষর দেন বাবুল মিয়া। এই দৃশ্য বাবুলের ছেলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। এ বিষয়টি টের পেয়ে যায় ফজর আলীর লোকজন।

গত ১ ডিসেম্বর ফজর আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি ট্রলি চালকের ওপর হামলা চালায়। এতে বাঁধা দেয় বাবুলের স্ত্রী সন্তানরা। এ সময় কামরুলকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে তাকে আহত করে বাবুল মিয়াকে ফজল আলীর লোকজন জোর করে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

এদিকে স্কুলছাত্র কামরুলকে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ ডিসেম্বের (মঙ্গলবার) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নিহত স্কুলছাত্রের বাবা বাদী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় ফজর আলীসহ চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই লোকমান জানান, হত্যার মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা