kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জামালগঞ্জে বেপরোয়া টোল আদায় বন্ধের দাবি শ্রমিকদের

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামালগঞ্জে বেপরোয়া টোল আদায় বন্ধের দাবি শ্রমিকদের

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরবর্তী গজারিয়া বালুঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর অধীনে থাকা ইজারাদার কর্তৃক বেপরোয়া টোল আদায়ের প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেল তিনটায় উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে ওই বালুঘাট এলাকার হাজারো শ্রমিকের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গজারিয়া বালুঘাটের শ্রমিক সর্দার মো. কামরুল মিয়া, বশির মিয়া, শ্রমিক মল্লিক বাহাদুর, জসিম মিয়া, গজারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. প্রবাল মিয়া, মো. পারভেজ মিয়া, মো. শরিফ আহম্মেদ, এরশাদ মিয়া, নবী হোসেন, জলিল মিয়া, ইয়াসিন মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (বিআইডব্লিউটিএ) বালুঘাট ইজারার নীতিমালা অনুযায়ী ইজারাদার গজারিয়া বালুঘাট এলাকায় বালু উঠা-নামার ক্ষেত্রে প্রতি ফুট বালু থেকে ২৫ পয়সা করে টোল আদায়ের কথা থাকলেও ওই বালুঘাটের ইজারাদার ইয়াকবির আফিন্দি ও তার লোকজন প্রতি ফুট বালু থেকে দেড় থেকে ২ টাকা হারে টুল আদায় করে যাচ্ছেন। এভাবে তারা প্রতিদিন এ বালুঘাট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন।

বক্তারা আরো বলেন, তাদের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বালুঘাটের শ্রমিক ও নৌকার মাঝিদের উপর তারা শারীরিক নির্যাতন করায় এ ঘাট এলাকায় পরিবহন মালিকেরা মালামাল উঠা নামা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। ইজারাদারসহ তার লোকজনের অত্যাচারে এ বালুঘাটে মালামাল উঠা নামা বন্ধ থাকায় ওই বালুঘাটের হাজারো শ্রমিক তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তারা আরো বলেন, প্রভাবশালী ওই ইজারাদার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেই তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। তাই অনতিবিলম্বে বিআইডব্লিউটি’র কর্তৃপক্ষের দেওয়া ওই বালুঘাটের ইজারা বাতিল করে বালুঘাট এলাকার হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

এ ব্যাপারে ইজারাদার ইয়াকবীর আফিন্দির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। 

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় করার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা পাল বলেন, নৌ-পথে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা