kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বেশি শিক্ষার্থীর 'লোভে' বই উৎসবের আগেই বই বিতরণ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেশি শিক্ষার্থীর 'লোভে' বই উৎসবের আগেই বই বিতরণ

অন্য বিদ্যালয়ের থেকে অধিক ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে বই উৎসবের আগেই নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা টি সি এ এল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষককরা ভর্তিতে আকৃষ্ট করতে এই অভিনব ব্যবস্থা নিয়েছেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চাপের মুখে বিতরণকৃত বই ফেরৎ নিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষাকরা।

বিষয়টি স্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন গাজী সাংবাদিকদের বলেন, বিতরণকৃত বই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ফেরত আনা  হয়েছে। গোহালা বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় তাদের বই বিতরণের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। গোহালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চেয়ে অধিক ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা টি সি এ এল উচ্চ বিদ্যালয় বই উৎসবের পুর্বেই ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বই বিতরণ করে আলোচনা-সমালোনার জন্ম দিয়েছে। স্কুল এলাকার গোহালা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের মেয়ে তামিমা, রবিউল আলমের মেয়ে পরশী ও হেমায়েত হোসেনের মেয়ে ইভাসহ প্রায় ৩০ জন ছাত্রীর হাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই (২০২০ সাল) তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয় এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আলীর নির্দেশে বই বিতরণ বন্ধ ও বিতরনকৃত বই ফেরৎ নেওয়া হয়।

প্রতিবছর সারা দেশে পহেলা জানুয়ারি বই উৎসব হয়ে থাকে। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়ে বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে থাকেন। এর আগে কোথাও বই বিতরণের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা অন্যায় বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর এলাকার বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন মোল্যা জানিয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণের বিষয়টি আমি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষ বইগুলো শিক্ষাথীদের কাছ থেকে ফেরত নিয়েছে।

এ ব্যপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিধান্তের উপর নির্ভশীল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আলী মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর বই ফেরত নিতে বলা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা